Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্যের বকেয়া ডিএ চলতি মাসেই, বিজ্ঞপ্তি শীঘ্র, জুলাইয়ের আগে সুপ্রিম কোর্টে উঠছে না মডিফিকেশন পিটিশন

১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর থেকে নবান্নের পাওয়ার করিডরের সবথেকে বেশি আলোচ্য বিষয়ই হল, কোন পদে থাকা কর্মী-আধিকারিক কত টাকা বকেয়া ডিএ পেতে চলেছেন।

রাজ্যের বকেয়া ডিএ চলতি মাসেই, বিজ্ঞপ্তি শীঘ্র, জুলাইয়ের আগে সুপ্রিম কোর্টে উঠছে না মডিফিকেশন পিটিশন
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর থেকে নবান্নের পাওয়ার করিডরের সবথেকে বেশি আলোচ্য বিষয়ই হল, কোন পদে থাকা কর্মী-আধিকারিক কত টাকা বকেয়া ডিএ পেতে চলেছেন। ‘২৫ শতাংশ তো কী হয়েছে, পাব তো’—এই আশাতেই জুন মাস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় প্রায় ১০ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশন প্রাপক। কারণ, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ মেটানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে ১৫ জুন। আর ডিএ মেটানোর সময়সীমা ৩০ জুন। এসবের মাঝেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো নিয়ে ইন্টেরিম অর্ডার বা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের বেশ কিছু পরিবর্তন চেয়ে ফের একবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ‌্য সরকার। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশের কয়েকটি ক্ষেত্রের সুষ্পষ্ট ব‌্যাখ‌্যা চেয়ে নবান্নের তরফে ফাইল করা হয়েছে ‘মডিফিকেশন পিটিশন’। কিন্তু বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের গ্রীষ্মাবকাশ চলায় সেই আবেদন আপাতত উঠছে না। আদালত খুলবে জুলাই মাসে। ফলে এই পিটিশন করা হলেও, আইনজ্ঞদের মতে জুন মাসের শেষের আগে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়াটাই একমাত্র পথ রাজ্যের কাছে। আর তাই এই সংক্রান্ত কাজও অর্থদপ্তর জোরকদমে চালাচ্ছে।

Advertisement

২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ’র পরিমাণ ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ অনুযায়ী, এর ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা চলতি জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। তবে এই নির্দেশ খতিয়ে দেখার পর রাজ‌্য সরকারের কয়েকটি ক্ষেত্রে আরও বিস্তারিত ব‌্যাখ‌্যা ও এই সংক্রান্ত কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে। তা পাওয়া গেলে আদালতের নির্দেশ মানতে সুবিধা হবে বলেই প্রশাসনিক মহলের মত। কতদিনের বকেয়ার উপর, বা কতটা বকেয়ার উপর এই ২৫ শতাংশের হিসেব কষা হবে, এমন বেশ কিছু অস্পষ্টতা কাটাতেই ‘মডিফিকেশন পিটিশন’ করেছে রাজ্য। রিভিউ পিটিশন নয়। 
আইনজ্ঞদের মতে, রাজ্যের এই আবেদনের শুনানি হলে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ সংশোধন বা বাতিল করতেই পারত সর্বোচ্চ আদালত। তবে তা একমাত্র সম্ভব সুপ্রিম কোর্টের গ্রীষ্মাবকাশ শেষে আদালত বসলে। সে ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ হারে ডিএ দেওয়ার পর রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? এই বিষয়টিও রাজ্য প্রশাসনের ভাবনায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মূল মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ আগস্ট। ২৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়েই রাজ্যকে যেতে হবে পরবর্তী শুনানিতে। তবে ছুটি শেষে রাজ্যের এই ‘মডিফিকেশন পিটিশন’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকে নজর রয়েছে নবান্নের।
প্রশাসনিক মহলের খবর, অন্তবর্তীকালীন যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে, তার কয়েকটি ক্ষেত্রে ‘মডিফিকেশন’ বা পরিবর্তন চাওয়া যেতেই পারে। তার সুযোগও রয়েছে আইনে। সেই অনুযায়ীই বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হতে চায় রাজ‌্য। ইতিমধ্যেই সেই আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ে গিয়েছে। তবে এখন আদালতে গ্রীষ্মাবকাশ চলায় এর শুনানি হচ্ছে না। ছুটি শেষ হলে সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী কি নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ‌্য সরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ