নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাস্থ্যসাথীতে রাজ্যবাসীর ফ্রি চিকিৎসাখাতে রাজ্যের খরচ বেড়ে হল প্রায় ২৯০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা ছিল ২৭৬৫ কোটি টাকা। এক বছরের কম সময়ে রাজ্যের খরচ বেড়েছে ১৩৫ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। দপ্তরের এক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালে শুরুর সময়ে এই প্রকল্পখাতে ফ্রি চিকিৎসা দিতে সরকারের খরচ হত ৪৫০-৫০০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ সাল থেকে এই প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যায়। সরকারের খরচও ২ হাজার কোটি ছাড়িয়ে আড়াই হাজার কোটির দিকে পাড়ি দেয়। তখন খরচে লাগাম পরানো এবং দুর্নীতি আটকানো—দুটিই পাখির চোখ হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যকর্তাদের কাছে। ছানি, প্রসব সহ বেশ কিছু ক্ষেত্র স্বাস্থ্যসাথীর আওতার বাইরে পাঠানো হয়।
দু’পয়সা রোজগারের লোভে বেশ কয়েকটি ছোটো বা মাঝারি হাসপাতাল কারণ ছাড়াই হাঁটু বা কোমর প্রতিস্থাপন শুরু করায় সরকার সেখানেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ট্রমা বা দুর্ঘটনা ছাড়া অন্যান্য অর্থোপেডিক চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথীর বাইরে আনা হয়। দুর্নীতিও কমে। সরকারের খরচও কমবে বলে ধরা হয়। কিন্তু তাতেও রকেটের গতিতে ছুটে চলা খরচ পুরোপুরি আটকানো যায়নি। একটু ধীরে করা যায় মাত্র। এক বছরে খরচ আড়াই হাজারও পার করে যায়। ২০২৪-২৫ সালে খরচ বেড়ে হয় ২৭৬৫ কোটি টাকা। এখনও চলতি অর্থবর্ষের তিন মাস বাকি আছে। তাতেও যা খরচ হচ্ছে, বর্ষশেষে প্রস্তাবিত খরচ ২৯০০ কোটি ছুঁয়ে ফেলবে বলে ধারণা করছে স্বাস্থ্যভবন।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা নিচ্ছে। সুবিধাভোগী উপভোক্তার সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, বর্তমানে রোজ এই প্রকল্পে ক্যাশলেস চিকিৎসা দিতে কমবেশি ৭ কোটি টাকা খরচ পড়ে।