Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় ব্রাত্য বাংলা ভাষা তবু স্কুলপড়ুয়াদের যোগদানের আহ্বান রাজ্যের, সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে অসন্তোষ

সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় ব্রাত্য বাংলা ভাষা। আর সেখানেই যোগদানের জন্য রাজ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান আহ্বান জানাচ্ছে বাংলার পড়ুয়াদের।

সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় ব্রাত্য বাংলা ভাষা তবু স্কুলপড়ুয়াদের যোগদানের আহ্বান রাজ্যের, সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে অসন্তোষ
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় ব্রাত্য বাংলা ভাষা। আর সেখানেই যোগদানের জন্য রাজ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান আহ্বান জানাচ্ছে বাংলার পড়ুয়াদের। এমনই নোটিসে তাজ্জব শিক্ষক ও শিক্ষা-প্রশাসকরা। কেন্দ্রীয় সরকারি বিজ্ঞপ্তি হুবহু প্রকাশ করে এর আগেও বিপাকে পড়েছিল বিকাশ ভবন। দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে স্বচ্ছতা পাকওয়াড়া পালনের সেই বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করতে বাধ্য হয় তারা। তবে, শিক্ষা দপ্তরের অধীন একটি সংস্থার একই ধরনের একটি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ফের তরজা শুরু হয়েছে। স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এসসিইআরটি) এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

Advertisement

স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, লিঙ্গসাম্য, নাগরিক দায়িত্ব, এইআইভি সুরক্ষা প্রভৃতি ১১টি থিমের উপরে রোল প্লে কম্পিটিউশন হবে। সমস্ত রাজ্যের নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারে। পড়ুয়ারা কোনও নাটকের ধাঁচে বিভিন্ন থিম নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেবেন। রোল প্লে বা চরিত্রনির্ভর প্রেজেন্টেশন বলেই প্রতিযোগিতাটির এরকম নাম দেওয়া হয়েছে। তবে, এর নির্দেশাবলিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু এটি সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা, তাই শুধু হিন্দি এবং ইংরেজিতেই হবে এই প্রেজেন্টেশন। শাসক দল তথা রাজ্য সরকার যেখানে বাঙালি হেনস্তা, হিন্দি আগ্রাসনের মতো ইস্যুতে পথে নেমেছে, সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের তরফে এই বার্তায় রীতিমতো বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ছাত্রদের মধ্যে লাইফস্কিল এবং অন্যান্য বিশেষ গুণাবলির প্রসার, বিশেষভাবে বলতে গেলে হোলিস্টিক এডুকেশন বা শিক্ষার সার্বিক অভিমুখ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। জেলা স্তর থেকে দলগুলি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উঠে আসবে। প্রতিটি দলে চার থেকে পাঁচজন পড়ুয়া থাকবে। এঁদের মধ্যে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু থাকা আবশ্যিক। আপাত সাধু উদ্যোগে যেন চোনা ফেলে দিচ্ছে ভাষাগত সংকীর্ণতা। অর্থাৎ ভাষার ক্ষেত্রে ‘হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ নিতে ব্যর্থ এই প্রতিযোগিতা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা আধিকারিক বলেন, কলা উৎসব একটি খুবই পরিচিত এবং সার্বিকভাবে সমাদৃত একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এতে শিক্ষকরা অংশ নিয়ে থাকেন। এই সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় কিন্তু যেকোনও আঞ্চলিক ভাষাতেই অংশ নেওয়া যায়। তাই সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতার যুক্তিতে রোল প্লে কম্পিটিশনে শুধু হিন্দি এবং ইংরেজি কেন থাকবে, সে প্রশ্ন তুলছেন তিনি। আর এই ভাষাগুলিতে বাংলামাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের যোগদানে কতটা সাফল্য মিলবে, সেই সংশয়ও থেকে যাচ্ছে।
এক প্রধান শিক্ষকের কথায়, সাফল্য পাওয়া অন্য প্রসঙ্গ। যে প্রতিযোগিতায় বাংলাই নেই, সেখানে রাজ্য সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান পড়ুয়াদের যোগদানের জন্য কেন আহ্বান জানাবে? আবার জেলায় জেলায় এ নিয়ে উদ্যোগ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিটিংয়ের পর মিটিং হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে এসসিইআরটির চেয়ারপার্সন ছন্দা রায় বলেন, ‘এটা একটা সচেতনতামূলক প্রকল্প। এ ধরনের নির্দেশিকা দীর্ঘদিন ধরেই হয়ে আসছে। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী নই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা না বলে কোনও মন্তব্য করব না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ