Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৫০ হাজার তাঁতিকে হ্যান্ডলুম স্কিমের আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু রাজ্য সরকারের, লক্ষ্য তাঁতশিল্পের পুনরুজ্জীবন

তাঁত শিল্পকে চাঙা করতে হ্যান্ডলুম অ্যান্ড খাদি স্কিম নিয়ে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

৫০ হাজার তাঁতিকে হ্যান্ডলুম স্কিমের আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু রাজ্য সরকারের, লক্ষ্য তাঁতশিল্পের পুনরুজ্জীবন
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁত শিল্পকে চাঙা করতে হ্যান্ডলুম অ্যান্ড খাদি স্কিম নিয়ে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আর কয়েকমাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে জমা পড়েছে ৫০ হাজারের বেশি আবেদন। তবে শুধু আবেদন সংগ্রহ করাই নয়, সেসব যাচাই করে জানুয়ারি মাস থেকে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু করে দিল নবান্ন। গত ১৪ দিনেই দু’হাজরের মতো তাঁতির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা পৌঁছে গিয়েছে। আগামী কয়েকসপ্তাহের মধ্যে বাকি আবেদনকারীদের নথি যাচাই সম্পূর্ণ করে সুবিধা প্রদানের কাজ সম্পন্ন করার টার্গেটও নিয়েছে রাজ্য।

Advertisement

ক্ষুদ্র শিল্পদপ্তরের অধীনে তাঁতিদের তিনভাবে সুবিধা দিতে এই প্রকল্প নিয়েছে রাজ্য। প্রথমত, ব্যক্তিগতভাবে কর্মরত তাঁতিদের দেওয়া হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত এককালীন আর্থিক সহায়তা। এই অর্থ ব্যবহার করে তাঁত বোনার মেশিন মেরামতি ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিকাঠামো সংস্কার করবেন তাঁতিরা। এই সহায়তা পেতেই অধিকাংশ আবেদন জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। সুবিধা প্রদান শুরু হয়ে গিয়েছে বর্ধমান, নদীয়া, হাওড়া, হুগলি, কোচবিহার প্রভৃতি জেলায়।

এছাড়াও তন্তুজ’র মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার সুতো দিয়ে তাঁতিদের কাজের পরিধি বৃদ্ধিও সুনিশ্চিত করছে রাজ্য। ব্যক্তিগত তাঁতি ছাড়াও, রুগ্‌ণ প্রাইমারি উইভার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি বা খাদি সোসাইটিগুলিকে পুনর্জীবিত করে তোলারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একেকটি সোসাইটির অধীনে রয়েছেন বহু তাঁতি। কোনোটায় ১০০, আবার কোনো সোসাইটির সঙ্গে পাঁচ শতাধিক তাঁতি যুক্ত রয়েছেন। তবে পাওয়ারলুম এবং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আর্থিক ধাক্কা খেয়েও তাঁতশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই জারি রেখেছে বহু সোসাইটি। এমন সংস্থাগুলির সমবায় ব্যাংকের বকেয়া মুকুবের ব্যবস্থাও করছে রাজ্য। এমনকি বকেয়া বাবদ সুদও মুকুব করা হবে। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, রাজ্যে প্রায় এমন ২০০টি সোসাইটিকে এই সহায়তা প্রদানের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে রাজ্যের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, রাজ্যে তাঁতি এবং তাঁতের কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ। এই প্রকল্প গ্রামবাংলার তাঁতিদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জোগাচ্ছে। রাজ্যের সহযোগিতায় তাঁতশিল্পকে নতুন জীবন দিতে এগিয়ে আসছেন এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ