নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে এখনও পর্যন্ত ৬৮০ একর জমি কেনার টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ৩২৪ একর জমি ইতিমধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য। এখনও ৩৫৬ একর জমি ব্যাক্তি মালিকদের থেকে কিনে বিএসএফকে দেওয়া বাকি রয়েছে। এই কাজ করতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে। এই প্রেক্ষিতে ৩৫৬ একর জমি দ্রুত হস্তান্তর করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলিকে নবান্ন নির্দেশ দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের বৈঠকে সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তার পরেই জেলাগুলিকে নবান্নের এই নির্দেশ।
সীমান্ত বরাবর কাঁটাতার দিতে এখনও পর্যন্ত ১৫০৫ একর জমি চেয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে ২৬৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের জন্য ১৪১২ একর জমি হস্তান্তরের ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৬৮০ একর জমি কেনার জন্যই অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। সেই মতো পদক্ষেপ করতে শুরু করল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য গতমাসেই প্রায় ২০০ একর জমি কিনেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সেই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বিএসএফকে। আরও ১৯০ একর জমি কেনার জন্য নথিপত্র প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। ১৩৮ একর অর্থাৎ প্রায় ৪১৭ বিঘা জমি কিনে তা বিএসএফকে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। তার মধ্যে ৮২ একর জমিতে বিএসএফের নামে ‘ল্যান্ড মিউটেশন’ হয়েও গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, প্রতি মাসেই বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠক হয়। গত মে মাসে অনেকটা জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি জমিও দ্রুত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। অন্যান্য জেলাতেও একই তৎপরতা শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ৩১৮ একর জমিতে ‘ফেনসিং’ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই এলাকার মধ্যে সাধারণ মানুষের জমি ছাড়াও রয়েছে অনেক জলাশয়। স্বাভাবিক কারণেই এসব এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালাতে হয় বিএসএফকে। তাই এই ৩১৮ একর জমি অতি দ্রুত কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কয়েকমাস আগে। এর মধ্যে বাগদায় ১০২ একর, বনগাঁয় ২৪ একর, গাইঘাটাতে ১০০ একর ও স্বরূপনগরে ৯২ একর জমি রয়েছে। সেই মতো প্রতিটি ব্লকের বিডিও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে বিডিও এবং বিএলএলআরও-রা একাধিকবার বৈঠক করেছেন। কিন্তু বেশ কিছু জমি মালিক বিভিন্ন ‘অজুহাত’ দেখিয়ে জমি দিতে রাজি হননি। ফলে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে ইতিমধ্যে ২১১ একরের বেশি জমির মালিক প্রশাসনকে জমি দিতে সম্মত হয়েছেন।