নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১ কোটি ৫৮ লক্ষ বাড়িতে এবং জনবহুল এলাকায় ৯,৬৬২টি ‘কমিউনিটি টয়লেট’ তৈরি করে এই কাজে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলা। তবে এখানেই থেমে থাকতে রাজি নয় রাজ্য প্রশাসন—তারা ওপেন ডেফিকেশন বা উন্মুক্ত শৌচ বিরোধী অভিযানও চালিয়ে যাবে। তার পাশাপাশি ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে কাজে লাগিয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও নয়া নজির সৃস্টির কাজ শুরু করল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। এই কাজে প্রথম তিনটি স্থান অধিকারী গ্রাম পঞ্চায়েতকে (জিপি) পুরস্কৃত করা হবে। মঙ্গলবার ঘোষণা করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন দপ্তরের দুই প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না এবং শিউলি সাহা। অন্যান্য বর্জ্য ব্যবহার করে জৈবসার উৎপাদনের মাধ্যমে সর্বাধিক রাজস্ব আদায়কারী জিপিকেও পুরস্কৃত করা হবে। রুরাল স্যানিটেশন নিয়ে এদিন ঘোষণা করা হয় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত রাজ্য স্তরের এক কর্মশালায়। দুই ক্ষেত্রেই পুরস্কারস্বরূপ এই জিপিগুলির জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে।
সব জেলা থেকে আসা অতিরিক্ত জেলাশাসক, স্যানিটেশন সেলের নোডাল অফিসার, জয়েন্ট ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের মন্ত্রীরা জানিয়ে দেন যে, এই কাজের জন্য অর্থের কোনও অভাব নেই। কারণ, তাঁদের কথায়, বর্তমান হিসেবমতো, ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পে এরাজ্যে ২,৭০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হতে পারে। কর্মশালায় ছিলেন দপ্তরের সচিব পি উলগানাথন, স্যানিটেশন সেলের সচিব সন্তোষা গুব্বি রামচন্দ্রন এবং অন্য কয়েকজন পদস্থ কর্তা। ছিলেন ইউনিসেফসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও। ইতিমধ্যে, রাজ্যজুড়ে ৮৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা কেন্দ্র গড়ে তুলেছে রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। এই সমস্ত ইউনিটে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক গ্র্যানিউল বা দানা তৈরি হচ্ছে। এসব ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তা তৈরির কাজে। এখনও পর্যন্ত এই সমস্ত কেন্দ্র থেকে ১০০ টন প্লাস্টিক গ্র্যানিউল সরবারহ করা হয়েছে রাস্তা তৈরির কাজে। ফলে আগামী দিনে কঠিন বর্জ্য প্রতিশোধন কেন্দ্রের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা কেন্দ্র গড়তে সমান গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। আর এই কাজ করতে কোনোরকম রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হলে, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের প্রতিধিরা তাঁদের সরাসরি ফোন করে সাহায্য চাইতে পারেন। জানিয়েছেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না।