Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আবার আইনি প্যাঁচে বাতিল হবে না তো! পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় চাকরি প্রার্থীরা

পরীক্ষা কেমন হল? ৯ বছর পর এসএসসি-র প্রথম দফার পরীক্ষার পর চাকরিপ্রার্থীদের কমবেশি সকলেরই প্রশ্ন, পরীক্ষা যেমনই হোক, আবার আইনি জটিলতার এটাও বাতিল হবে না তো!

আবার আইনি প্যাঁচে বাতিল হবে না তো! পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় চাকরি প্রার্থীরা
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: পরীক্ষা কেমন হল? ৯ বছর পর এসএসসি-র প্রথম দফার পরীক্ষার পর চাকরিপ্রার্থীদের কমবেশি সকলেরই প্রশ্ন, পরীক্ষা যেমনই হোক, আবার আইনি জটিলতার এটাও বাতিল হবে না তো! শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘ আইনি টানাপড়েন আর চাকরিহারাদের দুর্দশা দেখে প্রমাদ গুনছেন পরীক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত ঝাড়াই বাছাই ছাড়াই পুরনোদের নিয়েই হয়েছে এবারের পরীক্ষা। ফলে আবার কোনও মামলা বা আইনি জটিলতায় এই পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েই বাড়ি ফিরলেন তাঁরা। 

Advertisement

নদীয়া জেলাজুড়ে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক পদে পরীক্ষার জন্য মোট ৫৯টি কেন্দ্র হয়েছে। মোট পরীক্ষার্থী প্রায় ৩৬ হাজার। এরমধ্যে রবিবার ছিল নবম-দশমের শিক্ষক পদে নিয়োগের পরীক্ষা। এদিন জেলাজুড়ে ৩৩টি কেন্দ্রে প্রায় ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ছিলেন। এদিকে, রাজ্যে প্রায় দীর্ঘ ন’বছর পর পরীক্ষা হওয়ায় সদ্য বিএড পাশ থেকে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকা এবং সর্বোপরি চাকরিহারারা পরীক্ষার্থীর তালিকায় ছিলেন। পরীক্ষার মধ্যে অনেক ‘অসামঞ্জস্য’ রয়েছে বলে মত পরীক্ষার্থীদের একাংশের। তবে তার চেয়েও প্রায় প্রত্যেকেই এই পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। 
মূলত দুই ধরনের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এক নম্বর হল, বিরোধীদের তরফে স্বচ্ছ পরীক্ষা না হওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা। আর দুই নম্বর হল, পর্যাপ্ত ঝাড়াই-বাছাই ছাড়াই নিয়োগের ফলে কী ভবিষ্যৎ হতে চলেছে তার শঙ্কা। অর্থাৎ ন’বছর পর নিয়োগের রাস্তা খুললেও হাসিমুখে হল ছাড়তে পারলেন না চাকরিপ্রার্থীরা। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রানাঘাট কলেজে সিট পড়া এক পরীক্ষার্থী বলেন, এসএসসির পক্ষ থেকে মাত্র ১৮০০ দাগির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখনও সব অযোগ্য বাদ যায়নি। কীভাবে বলব পরীক্ষা স্বচ্ছ হয়েছে? তাছাড়া আর টেন্টেডরা যে অন্যভাবে রেজিস্ট্রেশন করে নতুন সেন্টারে পরীক্ষা দেয়নি সেটাই বা কে বলতে পারে? আমাদের তো মনেই হচ্ছে এই পরীক্ষা না আবার কোনও মামলার প্যাঁচে বাতিল হয়ে যায়। তাছাড়া রাজনীতির দড়ি টানাটানিতে বাংলায় মামলাবাজি তো লেগেই আছে। 
কালীগঞ্জের এক পরীক্ষার্থী বিশ্বজিৎ মাইতি বলেন, অযোগ্য শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এর মাঝেই সকলকে নিয়ে পরীক্ষা হচ্ছে। তাই মনের মধ্যে সংশয় রয়েছেই। নন্দদুলাল দে বলেন, ছ’বছর ধরে পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছি। চুল দাড়ি পেকে গেল। এতদিন পর পরীক্ষা হলেও তা স্বচ্ছভাবে হল বলা যাবে না। তাই কেমন পরীক্ষা হল তা বিবেচনা করা অনর্থক। জানি না কপালে কী আছে।
এদিকে, জেলাজুড়ে মোটামুটি নির্বিঘ্নেই মিটেছে প্রথম দফার পরীক্ষা। কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁস অথবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিকেল পর্যন্ত কোনও কেন্দ্র থেকে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। নদীয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) ইজাজ আহমেদ বলেন, পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই হয়েছে।  
অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন প্রশ্নপত্র ঠিকঠাক এসেছিল। খুব কঠিন অথবা খুব সহজ হয়নি। কমবেশি প্রত্যেকেই ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন। যদিও দিন শেষে নিজের দেওয়া পরীক্ষার উপর আত্মবিশ্বাস নয়, চাকরি প্রার্থীরা বাড়ি ফিরলেন অদৃষ্টের উপর নিজেদের ভবিষ্যৎ চাপিয়েই।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ