


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও চুঁচুড়া: পুলিসকে পেট্রল বোমা মারা সহ এসএসসি দপ্তরের বিক্ষোভ অভিযানে নানা হিংসা ছড়ানোর পরিকল্পনা! এমনই দাবি করে রবিবার এসএসসি অধিকার মঞ্চের দুই সদস্যের কল রেকর্ডিং ফাঁস করেছিল বিধাননগর কমিশনারেট। ওইদিন রাতেই হিংসা ছড়ানো পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। যিনি এই অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন, সোমবার কর্মসূচি শুরুর আগে তাঁকেও আটক করে পুলিস। সব মিলিয়ে এদিন ভেস্তে গেল এসএসসি অধিকার মঞ্চের পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ অভিযান। ওই কর্মসূচিতে শামিল হলেন না একজনও! পা মাড়ালেন না যোগ্য চাকরিহারারাও!
রবিবার সল্টলেকে বিধাননগর কমিশনারেট সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছিল, এসএসসি সংক্রান্ত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের সদস্য সুমন বিশ্বাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৮ আগস্টে বিক্ষোভ অভিযান পোস্ট করেছেন। তিনি পুলিসকে মেলও করেছিলেন। পুলিসের দাবি, কলকাতা হাইকোর্ট তাঁদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের জন্য যে জায়গা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, তার বাইরে বিক্ষোভ করতে চাইছেন তাঁরা। মহামান্য আদালতের নির্দেশকে আমান্য করায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারপরই ছ’মিনিটের একটি কল রেকর্ডিং প্রকাশ করে পুলিস। যেখানে সোমবারের আন্দোলন পর্বে ব্যাগে করে পাথর আনা, হিংসা ছড়ানো এবং পুলিসকে লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ছোঁড়ার পরিকল্পনা করছেন অধিকার মঞ্চেরই দুই সদস্য।
এদিন বেলা ১২টায় করুণাময়ী মোড়ে জমায়েত হওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে মিছিল করে এসএসসি অফিস। তারপর বিক্ষোভ। আগে থেকেই প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিকে, হিংসা ছড়ানোর কল রেকর্ডিং ইস্যুতে বিধাননগর পূর্ব থানায় একটি মামলা রুজু হয়। সেই মামলায় রবিবার রাতেই মুর্শিদাবাদ থেকে রেজাউল হক নামে একজন গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সকালে হুগলির আদি সপ্তগ্রাম স্টেশন থেকে আটক করা হয় সুমন বিশ্বাসকে। তারপর দিনভর তাঁকে থানায় আটকে রাখা হয়। সেই খবর আন্দোলনকারীদের হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপে ছড়িয়ে যায়। তারপর আর কেউই করুণাময়ীতে হাজির হননি। বিকেল পর্যন্ত ‘ঢাল-তলোয়ার’ নিয়ে বসে থেকে পুলিসও চলে যায়।আঘাতের পরিকল্পনা, শান্তিভঙ্গ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ রেজাউল হকের বিরুদ্ধে ৮টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। যদিও এদিন বিধাননগর আদালতে পেশ করা হলে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়ে যায়। এদিন সন্ধ্যায় সুমন বিশ্বাস সাংবাদিকের বলেন, আন্দোলনকে ভেঙে দেওয়ার জন্য পুলিস আমাকে হাইজ্যাক করে সারাদিন মগরা থানায় বসিয়ে রেখেছিল। তবে যোগ্যদের চাকরি না ফিরলে, আন্দোলন আরও বড় হবে।