নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলায় ‘যোগ্য’দের চিহ্নিত করে চাকরি বজায় রাখার রাস্তা বের করতে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের হল। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারাচ্ছেন ২৫ হাজার ৭৫২ জন। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করতে না পারার ব্যর্থতার কারণেই সবার চাকরি বাতিল করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে পরীক্ষার ওএমআর শিটের স্ক্যানড কপি তথা মিরর ইমেজ প্রকাশ করলেই যোগ্যদের চিহ্নিত করা সম্ভব বলে দাবি করে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছেন সুমন বিশ্বাস সহ কয়েকজন। মামলায় সিবিআই’কে বিবাদী করা হয়েছে।
দায়ের করা মামলায় তাঁদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওএমআর শিটের মিরর কপিকে সিবিআই স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে সেই ওএমআর শিটের মিরর কপি প্রকাশ হলেই যোগ্য শিক্ষকরা চিহ্নিত হয়ে যাবেন। তাই সেই মিরর ইমেজ আদালতের সামনে আনার দাবি করেছেন আবেদনকারীরা। যদিও স্কুল সার্ভিস কমিশন চাকরিহারার মূল মামলায় আদালতে জানিয়েছিল, তাদের কাছে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওএমআর শিটের কোনও কপি (আসল অথবা স্ক্যানড তথা মিরর ইমেজ) নেই। নিয়োগ সংক্রান্ত বিধি মেনেই প্যানেল প্রকাশের মেয়াদ এক বছর পার হতেই তা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
যদিও ঘটনাচক্রে দুই প্রার্থীর আরটিআই (তথ্য জানার আইন) আবেদনের জবাবে স্কুল সার্ভিস কমিশন ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ওএমআর শিটের মিরর কপি দেয়। একইসঙ্গে আদালতে কমিশন এও জানায়, সিবিআইয়ের উদ্ধার করা নথি থেকেই ওই ওএমআর শিটের মিরর কপি তারা জোগাড় করেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা আছেই। কমিশনের দাবি, তারা সিবিআইয়ের উদ্ধার করা হার্ডডিস্ক থেকে ওএমআর স্ক্যানড তথা মিরর ইমেজ জোগাড় করেছে। ফলে সিবিআইয়ের কাছে তার বিস্তারিতও রয়েছে বলেও চাকরিহারাদের একাংশের দাবি। সেই কারণেই সিবিআইকে নতুন দায়ের হওয়া মামলায় বিবাদী করে ওএমআর শিটের মিরর কপি প্রকাশ্যে আনার আর্জি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন দেখার কবে হয় শুনানি।