হৃদয়ে বসে থাকা তোমার অন্তরাত্মা, তোমার ইষ্টদেবতা, আমাদের শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমায়ের সঙ্গে অনুক্ষণ সম্পর্ক রাখো, ওনারা যেভাবে তোমাকে চালনা করবেন সেই ভাবে চলতে থাকো। জীবনে স্থিরতা কোথায়? জীবন তো গতিময়। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার জীবন আছে ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে হবে। থামলে তো চলবে না। স্বামীজী মহারাজের জীবনী পড়ো।
ভারতবর্ষের ধর্ম কোথায় গেল। সত্যযুগের উল্লেখ আমাদের শাস্ত্রেই পাওয়া যায়। ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্র অবতীর্ণ হয়েছিলেন, দ্বাপরযুগে শ্রীকৃষ্ণ ভগবান। আবার কলিযুগে গৌতমবুদ্ধ, মহম্মদ এবং যীশুখৃষ্ট, আবার শ্রীচৈতন্যও। কলিযুগের শেষে শ্রীশ্রীঠাকুর সত্যযুগের প্রারম্ভ করলেন। শ্রীভগবান ঐ সব দেশে জন্ম নেন নি, যে সব দেশের লোকেরা সংসারের প্রতি লালায়িত, প্রহ্লাদ, ধ্রুব বা নরেন্দ্রনাথের মত শ্রীভগবান লাভ করার জন্য ব্যাকুলতা ওদের মধ্যে নেই। কিন্তু শ্রীশ্রীঠাকুরের মহিমার প্রচার উনি স্বয়ং শুরু থেকেই ঐসব দেশেও করেছেন, তাই ফলস্বরূপ বেলুড় মঠের অনেক শাখা ঐসব দেশে স্থাপিত হয়েছে, ঐসব দেশের লোকেরা অনেকে সন্ন্যাসও নিয়েছেন। ত্যাগ তো মনের কথা। মঠের সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীরা মঠে প্রবেশ করেন মানুষের সেবা করার জন্য (জগতহিতায়) এবং সাথে সাথে ধ্যান-জপ-উপাসনা ইত্যাদির মাধ্যমে মনে এক নতুন আধ্যাত্মিক সংস্কার সৃষ্টি করেন যাতে মন শুদ্ধ হয়ে উঠে এবং সমাধির যোগ্য হয়ে যায়। মন শুদ্ধই আছে যেমন কোন নোটবুক বা অভ্যাস পুস্তকের ফাঁকা পৃষ্ঠার মত যতক্ষণ ওটার ওপর ভুল বা শুদ্ধ কিছু না লিখে ফেলছ। তেমনি তোমার মনে ভুল বা শুদ্ধ অর্থাৎ খারাপ-ভালো ভাবনা আসতে থাকে, তার মধ্যে কিছু একটা ভাবনার সঙ্গে তোমার আকর্ষণ হয়ে যায়, এটাই তোমার বিপদ। কিন্তু আকর্ষণ হওয়ার আগে মনই তোমাকে শতবার বারণ করে, সাবধান করে, তুমি মনের কথায় কান দাও না।
শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছেন যে, কোনো এক প্রদীপের আলোতে কোন এক ব্যক্তি ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে পারে এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি জাল নোটের ব্যবসা করতে পারে, তেমনি সংসারে দু-ধরনের লোক আছে। এক তো শ্রীভগবানের শরণে থেকে ধর্মের অনুসরণ করে জীবন অতিবাহিত করে এবং দ্বিতীয় ধর্মের, রীতি-নীতির অবমাননা করে জীবন অতিবাহিত করে, কিন্তু দুঃখের অভাব দুজনের জীবনেই হয় না। দুঃখ দুজনের জীবনেই বিদ্যমান। দুঃখই আমাদেরকে ধর্ম এবং শ্রীভগবানের শ্রীচরণের দিকে নিয়ে যায়। ভগবতী সীতা, কুন্তী, দ্রৌপদী, শ্রীশ্রীমা সারদা, বিদুর, দুর্যোধন এবং পাণ্ডবদের জীবনের দুঃখের দিকে যদি নজর দাও তবে দেখবে যে দুঃখ সহন করাই শ্রীশ্রীভগবানকে লাভ করা। স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের দুঃখের অভিজ্ঞতাকে দেখো, কিন্তু তিনি সেই দুঃখকে গুরুত্ব না দিয়ে, শ্রীশ্রীঠাকুরের সেবা করতে কখনো বিমুখ হননি, দুঃখ ও দারিদ্র্য নিয়ে এত চিন্তা করো না।
‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে