তোমার সন্তান ও স্বামীর ভবিষ্যৎ তাদের বুদ্ধির উপর নির্ভরশীল। যতক্ষণ তাদের বুদ্ধি সংসারের মধ্যে বদ্ধ ততক্ষণ সাংসারিক সুখ-দুঃখের মধ্য দিয়েই চলতে হবে, কিন্তু তবুও তোমার উপস্থিতির কারণে ওরা নিজেদের অবস্থার সাথে পরিচিত হবে, তোমার কাছ থেকে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমায়ের জীবনের কথা শুনে, তোমার জীবনে তাঁদের উপদেশের প্রতিফলন দেখে ওরাও আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের জন্য উৎসাহ পাবে। নিশ্চিন্ত থাকো। তোমার পূর্ব জন্মের কর্ম অনুসারে এই জীবন তুমি পেয়েছো, আবার শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম জপ করার অধিকারও পেয়েছো। তাই এখন নিরন্তর প্রভুর নাম জপ করে যাও, চলতে ফিরতে, যে কোন কাজ করতে করতে মনে মনে ঈশ্বরের নাম জপ করার অভ্যাস করো।
তীর্থ ভ্রমণকালীন তুমি অনুভব করতে পেরেছো যে সব কিছুই প্রভুর দ্বারা পূর্ব নির্ধারিত, সুতরাং নিজের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এই কথাটি অনুভব করো। যেখানেই যাও শ্রীশ্রীমায়ের একটি ছবি নিজের সঙ্গে সব সময় রেখো।
জীবনী পড়ো, তারপর নিজেকে দেখো, নিজের উপরে নজর দাও। এই প্রক্রিয়াই তোমাকে শুদ্ধ করবে। শ্রীশ্রীঠাকুর তাঁর নাম নেওয়ার অধিকার দিয়েছেন। যত দূর পারো দিন-রাত তাঁর নাম নিতে থাকো এবং ওটার দ্বারাই তোমাদের কল্যাণ হবে। শ্রীশ্রীঠাকুর এবং শ্রীশ্রীমাকে নিরন্তর প্রার্থনা করছি। তাঁদের জীবনী পড়তে থাকো, তারপর নিজের দৈনন্দিন আচরণের উপর নজর দাও, এই প্রক্রিয়া তোমার মনকে শুদ্ধ করবে। কোনো মহারাজকে প্রণাম করে কখনও কিছু চাইবে না। কখনও কারো থেকে কিছু চাইবে না। শ্রীশ্রীঠাকুর তোমাকে তাঁর নাম জপ করার অধিকারী করেছেন। তিনি এবং শ্রীশ্রীমা জানেন কখন তোমার কী প্রয়োজন। তাঁদের থেকেও কিছু চাইবার প্রয়োজনীয়তা নেই। ছোট বাচ্চা কি কখনও তার মায়ের থেকে কিছু চায়? নিজের আধ্যাত্মিক অনুভূতি বা স্বপ্ন ইত্যাদির কথা কোনো দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করো না। তোমার পরবর্তী চিঠিতে আমাকে জিজ্ঞেস করো, আমি তোমাকে বলে দেবো কী করতে হবে। এখন এইটুকু বলে দিচ্ছি, এইরূপ করলে প্রশংসিত হবে এবং তাতে তুমি গৌরবান্বিত হবে। ফলস্বরূপ তোমার অহংকার বৃদ্ধি পাবে আর যদি কোনো কারণে তিরস্কৃত হও, তবে তোমার মন একেবারে ভেঙে পড়বে। তোমার অবস্থার কথা তোমার গুরু এবং তোমার ইষ্টদেবতা ছাড়া কেউ-ই বুঝতে পারবে না। যখন কোন শিশু তার মাকে ‘মা’ ‘মা’ বলে ডাকে সে কি তখন ‘মা’ শব্দের অর্থ বুঝে ডাকে, না তার ‘মা’ শব্দের অর্থ জানবার ইচ্ছে হয়? সে শুধু সেই ডাকের মধ্য দিয়েই তার মাকে পেতে চায়। তেমনি তোমারও মন্ত্রের অর্থ জানবার কোনো প্রয়োজন নেই। এইটুকু তো তুমি বোঝ যে ইষ্টকে দর্শন করাই তোমার মন্ত্র জপের আসল উদ্দেশ্য। নিজের জপ চালিয়ে যাও। জপে মন একাগ্র হতে চায় না, কয়েক বছর পরে একটু একটু করে মন একাগ্র হতে থাকবে। তখন ইষ্ট দর্শনের জন্য ব্যাকুলতা আসবে এবং নিরন্তর জপ করতে তুমি আনন্দ অনুভব করবে।
‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে