Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঠেকাতে বাতিস্তম্ভের গায়ে বিশেষ ‘ম্যাট’

প্রতিবছরই বর্ষাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে শহরে। গত কয়েকবছরে শহরে ১০টিরও বেশি এই ধরনের মৃত্যু হয়েছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঠেকাতে বাতিস্তম্ভের গায়ে বিশেষ ‘ম্যাট’
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিবছরই বর্ষাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে শহরে। গত কয়েকবছরে শহরে ১০টিরও বেশি এই ধরনের মৃত্যু হয়েছে। এবার তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু রুখতে রাস্তায় বাতিস্তম্ভের শরীরে বিশেষ ‘ম্যাট’ বা ‘কভার’ লাগানোর উদ্যোগ নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। এই ম্যাট বিদ্যুৎ কুপরিবাহী। ফলে বৃষ্টির সময় সেই কভার লাগানো বাতিস্তম্ভে হাত দিলে তড়িদাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। এ বছর বর্ষার আগে সে কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছে, বর্ষার আগেই প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে অটো মাইকিং করা হবে। পাশাপাশি কোথাও রাস্তার বিদ্যুতের স্তম্ভ থেকে হুকিং করা হচ্ছে কি না কিংবা ‘আর্দিং’ ঠিকঠাক আছে কি না, তা দেখার কাজ শুরু হচ্ছে।

Advertisement

তড়িদাহত হয়ে মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটায় গত কয়েক বছর ধরে উদ্বেগে প্রশাসন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনার তদন্তে দেখা গিয়েছে, কোথাও ফিডার বক্সের ঢাকনা খোলা ছিল। কোথাও হুকিংয়ের কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি ও জল জমাও এর কারণ। এই ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নিয়েছে কলকাতা পুরসভার আলোক বিভাগ। ত্রিফলা এবং অন্যান্য আলো মিলিয়ে প্রায় তিনলক্ষ বাতিস্তম্ভ পরীক্ষা করার কাজ হয়েছে। নতুন করে আর্দিংও হয়েছে। ল্যাম্পপোস্ট পরীক্ষা করার জন্য ওয়ার্ড পিছু একটি করে ‘আর্থ মেগার’ মেশিন কিনেছে পুরসভা। বিভিন্ন জায়গায় বেরিয়ে থাকা বিদ্যুতের তার বাতিস্তম্ভ বা ত্রিফলাগুলির গায়ের ঢাকনা আটকে টেপ সেঁটে দেওয়া হয়। কিন্তু বৃষ্টিতে আঠা নষ্ট হয়ে টেপ খুলে যায়। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিশেষ ম্যাট লাগানোর উদ্যোগ। এর আগেও ২০২২ সালে বাতিস্তম্ভগুলির গায়ে নীল রঙের বিদ্যুৎ কুপরিবাহী ম্যাট জড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে ১০ নম্বর বরোর দু’টি ওয়ার্ডে এই কাজ হয়। তবে টাকাপয়সার টানাটানির কারণে সর্বত্র এই ম্যাট লাগানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুরসভা। তার বদলে প্রতিবছর বাতিস্তম্ভগুলি বর্ষার আগে পরীক্ষা করে সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ম্যাট লাগানোর উদ্যোগ পুরসভার। নয়া পরিকল্পনায় প্লাস্টিক জাতীয় এক ধরনের কভার ব্যবহার করা হবে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। যা কম ব্যয়সাপেক্ষ। আলোক বিভাগের মেয়র পারিষদ সন্দীপরঞ্জন বক্সী বলেন, তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু আটকাতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই আমাদের তরফ থেকে যা যা সর্তকতামূলক পন্থা অবলম্বন করা যায়, তার সবটাই করা হবে। ম্যাটের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। খুব শীঘ্রই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। খরচ হিসেব করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঠিক হয়েছে, প্রত্যেকটি পাড়ায় অটো মাইকিং করে সতর্কতামূলক প্রচার হবে। হুকিং করা দণ্ডনীয় অপরাধ, তার ফলে মানুষের প্রাণহানি হতে পারে, পাড়ায় পাড়ায় সেই প্রচার চলবে। বাতিস্তম্ভের ফিডার বক্স মাটি থেকে নির্দিষ্ট উচ্চতায় তুলে দেওয়া হয়েছে। যাতে রাস্তার জমা জল তা স্পর্শ না করতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ চুরিও বন্ধ হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ