সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: তিনবছর ধরে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের যাত্রী পরিষেবা তলানিতে ঠেকেছে। সময়মতো লোকাল ট্রেন না চালানো, উন্নয়নমূলক কাজের নামে সাপ্তাহিক ট্রাফিক ব্লক নেওয়া এবং প্রায়শই ট্রেন বাতিলের ঘটনা ঘটছে। পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অথচ সেই দক্ষিণ-পূর্ব রেল এবছর পণ্য পরিবহণে নতুন রেকর্ড গড়েছে। অন্য বছরকে ছাপিয়ে এবার অর্থবর্ষের এক মাস বাকি থাকতেই সবচেয়ে বেশি পণ্য পরিবহণের রেকর্ড গড়েছে তারা। সেই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই যাত্রীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এখন লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রেখে মালগাড়ি সচল রাখা হচ্ছে। তাতে রেলের মুনাফা হচ্ছে। যদিও রেল বিষয়টি মানতে নারাজ।
আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম সুমিত নারুলা বলেন, ডিভিশনজুড়ে কোথাও ডবল লাইন পাতা হচ্ছে। কোথাও দু’টি ডিভিশনের রেলপথের সংযোগ করা হচ্ছে। এরকম প্রচুর কাজ হওয়ায় রেল পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। যাত্রীরা হয়তো ভাবছেন, শুধুমাত্র লোকাল ট্রেন পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টা তেমন নয়। লোকাল ট্রেনের মতো মালগাড়িও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখতে হচ্ছে। এর জন্য রেলের প্রচুর ক্ষতিও হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা জানতে পারেন না।
২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব রেল ২০৪মিলিয়ন টনের বেশি পণ্য পরিবহণ করেছে। যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, দক্ষিণ-পূর্ব রেল এর আগে কোনও অর্থবর্ষে ২০০ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। কিন্তু এবার অর্থবর্ষ শেষের আগেই ২০৪মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ হয়ে গিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের চারটি ডিভিশনের মধ্যে চক্রধরপুর ডিভিশন সবচেয়ে বেশি পণ্য পরিবহণ করেছে। এই অর্থবর্ষে ফেব্রুয়ারি মাস অবধি চক্রধরপুর ডিভিশন ১৪৮.৬ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করেছে। আদ্রা ২৭.৭ মিলিয়ন টন, খড়্গপুর ২৪.৩ মিলিয়ন টন ও রাঁচি ডিভিশন ৩.৩ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করেছে। পণ্য পরিবহণ বাবদ দক্ষিণ-পূর্ব রেলের প্রায় ১৮ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুধু লাভের অঙ্ক দেখছে। যাত্রী পরিষেবা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। অথচ করোনা সঙ্কটের সময় ট্রেনের ভাড়া প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
রেল পরিষেবার বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে বুধবার এবিটিএ’র পুরুলিয়া শাখার তরফে রেলের আদ্রা ডিভিশনে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আদ্রা ডিভিশন প্যাসেঞ্জার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিটিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক স্বদেশপ্রিয় মাহাত ও কৌশিক সরকার বলেন, ৮ এপ্রিল আদ্রার ডিআরএমকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ছাতনার ঝাঁটিপাহাড়ীর মতো রেললাইনে বসে প্রতিবাদ জানানো হবে।