Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

রাহুলের দাবিকে মান্যতা দিলেন সমাজকর্মী, মানতে নারাজ নির্বাচন কমিশন

ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কি আদৌ সত্যি কথা বলছে? লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য খারিজ করতে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ হাজির করেছিল নির্বাচন কমিশন।

রাহুলের দাবিকে মান্যতা দিলেন সমাজকর্মী, মানতে নারাজ নির্বাচন কমিশন
  • ৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

লখনউ: ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কি আদৌ সত্যি কথা বলছে? লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য খারিজ করতে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ হাজির করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কমিশনের ওয়েবাসাইটেই যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে রাহুলের অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে। তাই কমিশনের বক্তব্য নাকি, তাদের দেওয়া তালিকা—কোনটা ঠিক, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার রাহুল অভিযোগ করেছিলেন, ভুয়ো ভোটারদের হাত ধরেই ফের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন নরেন্দ্র মোদি। রীতিমতো এপিক নম্বর দিয়ে ভুয়ো ভোটারদের তালিকাও দিয়েছিলেন রাহুল। তালিকায় থাকা আদিত্য শ্রীবাস্তব (এপিক নম্বর: এফপিপি৬৪৩৭০৪০) ও বিশাল সিং (এপিক নম্বর: আইএনবি২৭২২২৮৮) নামে দুজনের কথা উল্লেখ করেছিলেন রাহুল। তিনি জানান, উত্তরপ্রদেশের বারাণসী ও লখনউয়ের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়েও একই এপিক নম্বরে আদিত্য ও বিশালের ভোটার কার্ড রয়েছে। রাহুলের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে আলোচনা শুরু হতেই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশনও। উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) নবদীপ রিনওয়া রাহুলের দাবি খারিজ করে জানান, আদিত্য ও বিশালের নাম একাধিক ভোটার তালিকায় নেই। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের তালিকায় দেখা গিয়েছে ওই দু’জনের নাম শুধুমাত্র বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরার ভোটার তালিকাতেই রয়েছে। অন্য কোনও রাজ্যের তালিকায় আদিত্য ও বিশালের নাম নেই।

Advertisement

কিন্তু সমাজকর্মী ও ‘ফ্যাক্ট চেকার’ বলে পরিচিত মহম্মদ জুবেইর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট ভিডিও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট জানান, রাহুলের দাবিই ঠিক। এক্স হ্যান্ডলে জুবেইর যে ভিডিও পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে লখনউ পূর্ব, মুম্বইয়ের যোগেশ্বরী পূর্ব, কর্ণাটকের মাধবপুরার আলাদা দুটি ঠিকানায় আদিত্য শ্রীবাস্তবের নাম রয়েছে। চারটি জায়গায় ঠিকানা আলাদা হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ওই ব্যক্তির এপিক নম্বর এফপিপি৬৪৩৭০৪০। উত্তরপ্রদেশের সিইও’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহাদেবপুরার শুধুমাত্র ৪৫৮ নম্বর বুথে আদিত্যর নাম থাকার কথা। অথচ দেখা যাচ্ছে, ৪৫৯ নম্বর বুথেও তাঁর নাম রয়েছে। এদিকে, শুক্রবার আদিত্যর লখনউয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কেউ থাকে না। দরজা তালাবন্ধ। প্রতিবেশীরা জনিয়েছেন, শ্রীবাস্তব পরিবার ওই বাড়িটির মালিক হলেও, পড়াশোনা ও চাকরির সূত্রের পরিবারের সকলেই বহু বছর আগে অন্যত্র চলে গিয়েছে। এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, আদিত্যর পরিবার প্রথমে মহারাষ্ট্রে বসবাস করত। তারপর সকলেই বেঙ্গালুরু চলে যান। আদিত্য কোনওদিন লখনউয়ে ভোট দিতে আসেননি বলেও জানিয়েছেন ওই প্রতিবেশী।
এদিকে, রাহুল অভিযোগ করেছিলেন, বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরাতেই একটি ১২০ বর্গফুট বাড়ির ঠিকানায় ৮০ জন ভোটারের নাম রয়েছে। এরা প্রত্যেকে লোকসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। যদিও ওই ঘরের মালিক জয়রাম রেড্ডি রাহুলের দাবিকে খারিজ করে দিয়েছেন। জয়রাম জানান, রাহুল সম্ভবত বিভ্রান্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি, ওই ঘরটি প্রায়ই পরিযায়ী শ্রমিকরা ছয় মাস বা এক বছরের জন্য ভাড়া নেন। ঘর ভাড়া নেওয়ার পর ওই ঠিকানায় শ্রমিকরা নতুন ভোটার কার্ড তৈরি করেন। পরে তাঁরা চলে গেলেও ওই ভোটার কার্ড ব্যবহার করে থাকেন। তাই এই বিভ্রান্তি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ