নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬ সালে দেশে ব্যবসা-পরিস্থিতি ভালো যাবে বলেই আশবাদী ছোটো শিল্পমহল। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় এমনই আশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। তবে শিল্পের চাকা ঘোরাতে প্রশাসনের উদ্যোগও জরুরি বলে মনে করছে শিল্পমহল। আসন্ন বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকার এই সংক্রান্ত কী পদক্ষেপ করে, সেদিকে নজর রয়েছে এমএসএমই সেক্টরের।
শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি কী, তা জানতে দেশজুড়ে ২৫টি শহরে দু’হাজার ছোটো শিল্পের উপর সমীক্ষা চালায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক নয়) এনবিএফসি। সেখানে ৭১ শতাংশ শিল্প সংস্থা জানিয়েছে, তারা এবছর নতুন আউটলেট বা শোরুম খুলতে আগ্রহী। কারণ, আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছতে চায় তারা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দুই শিল্প সংস্থার মধ্যে একটি দাবি করেছে, তারা ঋণ নিয়ে ব্যবসার সম্প্রসারণ করতে ইচ্ছুক। ৩০ শতাংশ সংস্থা জানিয়েছে, তারা বাজারে আনতে চলেছে নতুন ব্র্যান্ড। বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে একাধিক পণ্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এক্ষেত্রে সব থেকে বেশি এগিয়ে রয়েছে খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য, পানীয়, সৌন্দর্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত পণ্য, স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক বিভিন্ন পণ্য।
সমীক্ষায় ৮৬ শতাংশ সংস্থা দাবি করেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে জিএসটির হারে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা ব্যবসা বৃদ্ধিতে কিছুটা হলেও সহায়ক হয়েছে। পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, সরকারের উচিত এবারের বাজেটে জিএসটি ব্যবস্থার আরও সরলীকরণ করা। কারণ, এখনও বেশ কিছু প্রশাসনিক জটিলতায় ভুগছে দেশের পরোক্ষ কর ব্যবস্থা। ২৫ শতাংশ সংস্থা দাবি করেছে, সরকারের হাতে শিল্প সংক্রান্ত যে স্কিম আছে, সেগুলিরও সরলীকরণ প্রয়োজন। কারণ, শিল্পে উৎসাহদানকারী একাধিক সরকারি প্রকল্প চালু থাকলেও তাতে শিল্প সংস্থার অংশগ্রহণের হার বেশ কম। প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়মের ফাঁসে তা বহু সংস্থার নাগালের বাইরে থেকে যায়। একই কথা প্রযোজ্য ঋণ সংক্রান্ত সুবিধার প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও।
প্রসঙ্গত, সর্বভারতীয় বণিকসভা অ্যাসোচেম তাদেরই করা একটি সমীক্ষা রিপোর্টকে সামনে রেখে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার পিএলআই বা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র মতো একাধিক গালভরা প্রকল্প আনলেও বাস্তবে এসব উদ্যোগের সুফল খুব একটা পাচ্ছে না শিল্পমহল। সমস্যা থেকে যাচ্ছে এমএসএমই বা ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রেও। কারণ, সমীক্ষায় ৩৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত প্রকল্পগুলির সুবিধা শিল্পক্ষেত্রে সেভাবে পাওয়া যায়নি। ৩৯ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, এই উদ্যোগগুলির প্রভাব মাঝারি মানের। তাঁদের পরামর্শ, শুধু প্রকল্প চালু করলেই হবে না। তার কৌশল বা নকশা আরও উন্নত করা দরকার। আরও বেশি সংখ্যক শিল্প সংস্থা যাতে এর সুবিধা পায়, সেই দিকেও নজর দেওয়া উচিত। একেবারে তৃণমূল স্তরের শেষ পর্যায় পর্যন্ত প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হতে হবে সরকারকে।