নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির চম্পাসারির দক্ষিণ পলাশের পবিত্রনগরে একটি বাড়ি থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করল পুলিস। ওই বাড়ির গৃহকর্ত্রী পাসাং ডোমা (৫৭) দীর্ঘ এক বছর ধরে নিখোঁজ। তাঁর প্রথম পক্ষের ছেলে সিকিম পুলিসের কাছে মায়ের নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এরপরই তদন্তে নেমে প্রধাননগর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে সিকিম পুলিস। ওই এলাকায় মহিলার মোবাইল নম্বর অ্যাক্টিভেট ছিল। সেই সূত্রেই তদন্তে এসেছিল সিকিম পুলিস। যদিও প্রথমবার সেই বাড়িটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধাননগর থানার সাহায্যে বাড়িটি খুঁজে তালা ভাঙা হয়। এরপরই দোতলার একটি শোওয়ার ঘর থেকে কঙ্কাল উদ্ধার হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, সিকিমের একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা গৃহকর্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী ডিকে ভগতের সঙ্গে চম্পাসারির পবিত্রনগরে এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। খুব বেশি পুরনো নয় সেটি। সিকিমের ওই শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে স্কুল না যাওয়ায় গত বছর আগস্ট মাসে পরিবারের ও স্কুলের তরফে পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গৃহকর্তাকেও দীর্ঘদিন তাঁরা দেখেননি। ফাঁকা এলাকায় বাড়ি হওয়াতে মানুষের পচাগলা দেহের গন্ধ কেউ পাননি। তবে এদিন বাড়ি খুলতেই হতবাক হয়ে যান সকলে। কঙ্কাল উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, প্রধাননগর থানাতেও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা। ডিএনএ মেলানোর পর জানা যাবে দেহটি কার। এবিষয়ে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, সিকিমের এক মহিলা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন বলে সেখানকার একটি থানায় অভিযোগ জমা পড়ে। আমরা তাঁদের সাহায্য করি এবং একটি বাড়িতে ঢোকার পর কঙ্কাল উদ্ধার রয়েছে। সেটি কার, সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকায় চাঞ্চল্য। - নিজস্ব চিত্র।