নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিবারে একমাত্র বড়দাই বেঁচে আছেন। তেমনটাই জানতেন বোন। কিন্তু দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। হঠাৎই বড়দার খোঁজ নিতে বাড়ি এসে হতভম্ব দশা বোনের। দেখেন বড়দা নেই। সার্ভে পার্কে সেই বাড়িতে থাকে অন্য একটি পরিবার। পড়শিদের কাছে খোঁজ খবর করতে গিয়ে জানতে পারেন, বড়দা মারা গিয়েছেন! এরপর দাদার ডেথ সার্টিফিকেট পেতে পুরসভারও দ্বারস্থ হন বোন। কিন্তু খালি হাতে ফিরে আসতে হয় তাঁকে। উপায় না দেখে অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ষাঠোর্ধ্ব বোন।
ঘটনা হল, মামলাকারী তথা ওই মহিলার মা, বাবা, দুই দিদি আগেই মারা গিয়েছেন। আরেক দাদাও বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। সার্ভে পার্কের বাড়িতে একাই থাকতেন বড়দা। কিন্তু বহু বছর বড়দার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তাঁর সম্প্রতি সেই বড়দার খোঁজ করতেই সার্ভে পার্কের বাড়িতে এসেছিলেন বোন। দাদা মারা গিয়েছেন জানতে পারার পর তিনি তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট পেতে পুরসভায় ছোটেন। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। পরে মেয়রের কথামতো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে জানতে পারেন, পুরসভার কাছে ডেথ সার্টিফিকেট নেই।
নানা কারণে সার্ভে পার্কের বাড়িতে যাতায়াতই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বৃদ্ধার। এরপর ২০২২ সালে তিনি জানতে পারেন আরেক দিদিও মারা গিয়েছেন। তারপর তিনি জানতে পারেন, বড়দা বাড়ি বিক্রির তোড়জোড় করছেন। সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে কথা বলতেই সার্ভে পার্কের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বৃদ্ধা। তখনই জানতে পারেন, দাদা নাকি মারা গিয়েছেন! প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন গত ২০ ডিসেম্বর তাঁর দাদার মৃত্যু হয়। মামলাকারীর প্রশ্ন, তেমনটা হলে দাদার ডেথ সার্টিফিকেট কেন পাওয়া যাচ্ছে না? হাইকোর্ট মামলা গ্রহণ করেছে। ১৩ জুন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রর ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি।