নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও কোলাঘাট: চলতি মাসেই জারি হতে চলেছে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর-বিজ্ঞপ্তি। দিল্লি থেকে রাজ্য সফরে আসা কমিশনের প্রতিনিধি দলের তরফে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। সেক্ষেত্রে কালীপুজো ও দীপাবলি মেটার পরই বিজ্ঞপ্তি জারির সম্ভাবনা প্রবল বলেই জানা যাচ্ছে। আর বিজ্ঞপ্তি জারির সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে যাবে এসআইআরের কাজ।
বুধবারের পর বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলঘাটের বলাকা মঞ্চে পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক সারেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। বৈঠক শুরুর আগে সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ জ্ঞানেশ ভারতী কোলাঘাটে বলাকা মঞ্চে ঢোকার সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্ট। তবে তাতে কর্মসূচিতে কোনও প্রভাব পড়েনি। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সহ দপ্তরের অন্য আধিকারিকরা। সাতদিনের মধ্যে এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ সেরে ফেলতে বুধবারই জেলাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশনের প্রতিনিধি দল। এদিন তাদের তরফে যে বার্তা এসেছে তাতে স্পষ্ট, প্রস্তুতি শেষের দিন কয়েক পর, অর্থাৎ উৎসব পর্ব মিটলেই এসআইআর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে যাবে। এদিন তিন জেলার সঙ্গে বৈঠকে কমিশন কর্তারা আরও একটি বিষয় উত্থাপন করেছেন। সূত্রের খবর, এসআইআরের কাজ মেটার মাস দুয়েকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। সেই প্রেক্ষিতে এসআইআরের কাজ নিয়ে জেলাগুলিকে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
তিন জেলার প্রশাসনিক প্রধানদের পাশাপাশি এদিন প্রায় সাড়ে চারশো বিএলওকে নিয়েও বৈঠক করেছে কমিশন। সেখানে তাদের স্পষ্ট বার্তা, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নথির কোনও একটি না থাকলেই তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া যাবে না। কোন পরিস্থিতিতে কেন সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে নথি নেই, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও খোঁজ নিতে হবে। কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদের ক্ষেত্রে ত্রুটি নজরে এলে বিএলওরাই দায়ী থাকবে। তবে এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে বুথ লেভেল অফিসারদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গও। এ ব্যাপারে রাজ্যের দায়িত্বের কথা বললেও নজরদারিতে কমিশন থাকবে বলেও কর্তারা জানিয়েছেন।
বৈঠকে কমিশন আরও জানিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের বৈধ ভোটার হিসেবেই গণ্য করতে হবে। ওই তালিকায় নাম না থাকলে কমিশন নির্ধারিত প্রামাণ্য নথিগুলির যে কোনও একটি জমা দিতে হবে। তবে শুধু আধার কার্ডকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। আধার কার্ড দিলেও তার সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে তালিকাভুক্ত অন্য কোনও নথির লিঙ্ক থাকতে হবে। সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘এসআইআরে একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। আধার কার্ড নিয়ে যে আইন আছে, সেটাই বলবৎ থাকবে।’