নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ! বাংলায় যে কোনও দিন জারি হতে পারে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) বিজ্ঞপ্তি! বৃহস্পতিবার রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর (সিইও অফিস) থেকে দিল্লির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসে এই মর্মেই চিঠি গিয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ এসআইআরের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিনই আবার গোটা রাজ্যে (একটি বিধানসভা বাদে) ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে এখন রাজ্যে এসআইআর ঘোষণা কিছু সময়ে অপেক্ষা মাত্র।
কমিশন সূত্রে খবর, দিন কয়েক আগেই রাজ্যে এসআইআর প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য তলব করেছিল কমিশন। এদিন রাজ্যের সব জেলা থেকে আসা এসআইআর সংক্রান্ত রিপোর্ট একত্র করে দিল্লিতে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে কমিশন। সূত্রের খবর, সিইও অফিসের তরফে দিল্লিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরুর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ।
এর আগে কমিশনের নির্দেশ ছিল, সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী কোনও বুথে যাতে ১২০০’র বেশি ভোটার না থাকে, তা যাচাই করতে হবে। এসআইআর ঘোষণার আগে প্রস্তুতির সর্বশেষ পর্যায়ে সেই কাজই করছিল সিইও অফিস। সূত্রের খবর, কর্মকাণ্ড শেষ হওয়ার পরই কমিশনে বিস্তরিত রিপোর্ট পাঠিয়েছে সিইও অফিস। জানা গিয়েছে, রাজ্যে ১৪ হাজারের কিছু বেশি বুথ বাড়তে চলেছে। রাজ্যে বুথ সংখ্যা ছিল ৮০,৬৮০। কমিশন বুথ প্রতি ভোটার সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার পর সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে বুথ বেড়ে দাঁড়াবে ৯৪ হাজারের কিছু বেশিতে। ইতিমধ্যেই এই বর্ধিত বুথের সংখ্যা রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিধানসভা ভিত্তিক এই বর্ধিত বুথ সংখ্যা সম্পর্কিত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পাঠাতে চলেছে সিইও অফিস। কমিশন তাতে সিলমোহর দিলেই রাজ্যে মোট বুথের সংখ্যা ঘোষণা হবে।
এদিকে, এদিনই রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র কুলপি বিধানসভা বাদে ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সিইও দপ্তরের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ক্লিক করে ওই ভোটার তালিকা দেখতে পারবেন সাধারণ মানুষ। উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরেই রাজ্যে শুরু হবে এসআইআর। প্রথম দফায় ১০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। এরপর ভোটার তালিকা প্রকাশে জটিলতা তৈরি হয়। কারণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ও বীরভূমের মুরারই, রামপুরহাট ও রাজনগর বিধানসভার ২০০২ সালের তালিকা পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপরই দুই জেলার জেলাশাসককে তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। বীরভূমের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা খুঁজে পাওয়া গেলেও, কুলপির তালিকা এখনও নিখোঁজ। কুলপির ক্ষেত্রে একান্তই যদি ২০০২ সালের ভোটার তালিকা না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ২০০৩ সালের খসড়া ভোটার তালিকার উপরই নির্ভর করতে হবে কমিশনকে।