


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুর থেকে রাজের মানুষের জন্য বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুমোদন দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দু’দিনের মাথায় সিঙ্গুরে বাড়ির ভিতপুজো করলেন এক উপভোক্তা। রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে ‘বাংলার বাড়ি’ তৈরির কাজ শুরু করলেন মধ্যবয়সী রীতা সাঁতরা।
কাঁদতে কাঁদতে কপালে হাত ঠেকিয়ে প্রণাম করলেন দিদিকে। বললেন, কেউ বোঝেনি মাথায় ছাদ না থাকার কষ্ট। দিদি বুঝেছেন। তাঁর জন্যই নিজের বাড়ি, এক টুকরো পাকা ছাদের স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। মহিলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন প্রধান দীপিকা মাঝি। তা দেখছেন সিঙ্গুরের বিডিও সৌভিক ঘোষাল। শুক্রবার দুপুরে একটি বাড়ির স্বপ্নকে ঘিরে তৈরি হওয়া মানবিক কোলাজ দেখতে পেল সিঙ্গুর।
২৮ জানুয়ারি রাজ্য সরকারের প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’র দ্বিতীয় পর্বের অনুমোদন দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের সভা থেকে তিনি বলেছিলেন, টাকা পেলেই কাজ শুরু করে দেবেন। ইট গেঁথে ফেলবেন। একদম টাকা ফেলে রাখবেন না। কার্যত সেই কথাই অক্ষরে অক্ষরে পালনের রাস্তায় হাঁটলেন মল্লিকপুরের রীতাদেবী। শুক্রবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতেই ভিতপুজো সেরে ফেললেন। সেখানে সিঙ্গুর ব্লক প্রশাসন থেকে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তাদের ডেকেছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামী যখন বেঁচে ছিলেন তখন কোনওমতে টালির চাল দিয়ে মাটির বাড়ি গড়েছিলেন রীতা সাঁতরা। স্বামী গত হয়েছেন। বাড়ি সারানোর টাকা জোটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বিধবাকে। তাই দেওয়াল পড়েছে, টালির ছাদে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফাটল। বর্ষার দিনে সেসব ঢাকতে কোথাও গুঁজতে হয়েছে ছেঁড়া চটি কোথাও ত্রিপলের অংশ। শুক্রবার থেকে সেসব অতীত। ‘বাংলার বাড়ি’ দিয়ে মাথা গোঁজার স্বপ্ন সাকার হয়েছে দরিদ্র রীতা’র। গ্রামীণ নাগরিকের আবেগের সাক্ষী থেকেছে মল্লিকপুর গ্রাম, সিঙ্গুর প্রশাসন। নিজস্ব চিত্র