Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘শিলিগুড়ি নামার ভাড়া ১৫ হাজার’

কারও সর্বনাশ। আর কারও পৌষমাস! পাহাড়ে চরম বিপর্যয়। বহু মানুষের মৃত্যু। পর্যটকরা আটকে পড়েছেন। আর এটাকেই ‘সুযোগ’ হিসেবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পকেট ভরাতে নেমে পড়েছে গাড়িচালকদের একাংশ।

‘শিলিগুড়ি নামার ভাড়া ১৫ হাজার’
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তনিমা বসু (দমদমের বাসিন্দা): কারও সর্বনাশ। আর কারও পৌষমাস! পাহাড়ে চরম বিপর্যয়। বহু মানুষের মৃত্যু। পর্যটকরা আটকে পড়েছেন। আর এটাকেই ‘সুযোগ’ হিসেবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পকেট ভরাতে নেমে পড়েছে গাড়িচালকদের একাংশ। পাহাড়ে বেড়াতে এসে যে এভাবে বিপাকে পড়ব, ভাবতেই পারিনি। দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি, ৬৩ কিমি রাস্তায় গাড়িভাড়া ছিল সাড়ে তিন হাজার টাকা, সেটাই এখন চাওয়া হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা! হাতজোড় করে অনেক অনুরোধের পরও কাজ হয়নি। গাড়িচালক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১২ হাজার টাকার কমে কোনওভাবে সম্ভব নয়। মেয়ে-জামাই সহ পরিবারের অন্যরা মিলে ১৭ জন দার্জিলিংয়ে বেড়াতে এসেছি। চারদিন পাহাড়ে ঘোরার পর প্রায় সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। শিলিগুড়িতে পৌঁছতে আমাদের দু’টি গাড়ি দরকার। সেক্ষেত্রে অত টাকা গাড়িভাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে ট্রেনের টিকিট বাতিল করে হোটেলে দু’টো ঘরে সবাই মিলে কোনওমতে থেকে যেতে হল। এখন কীভাবে কলকাতায় ফিরব, বুঝতে পারছি না।

Advertisement

আমরা দমদমের বাসিন্দা। মেয়ে-জামাইয়ের অনেকদিনের শখ ছিল দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসবে। স্বামীও বলছিল অনেকদিন পাহাড়ে বেড়াতে আসা হয়নি। ঠিক হয়, পুজোর সময় এবার পাহাড়ের পুজো দেখব। যদিও টিকিট না পাওয়ায় দশমীতে দার্জিলিংয়ে এসে পৌঁছই। ম্যালের কাছে একটি হোটেলে উঠেছি। মেঘলা আকাশ থাকলেও ভালোই ঘুরেছি। ৫ অক্টোবর, রবিবার ফেরার কথা ছিল। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে টিকিট কাটা ছিল উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসে। কিন্তু শনিবার রাতের বিপর্যয় সব ওলটপালট করে দিল। এমনিতে দুর্যোগের রাত হোটেলে জেগে কাটাতে হয়েছে। মেঘের গর্জন আর বিদ্যুতের ঝলকানিতে বারবার কেঁপে উঠছিলাম। এদিন সকালে হোটেলে চেকআউট করে চকবাজার থেকে গাড়ি ধরতে গিয়েই সমস্যায় পড়ি। স্ট্যান্ডে বেশকিছু গাড়ি থাকলেও কেউ শিলিগুড়িতে যেতে নারাজ। চালকদের বক্তব্য, রাস্তায় ধস। যাওয়া যাবে না। ঝুঁকি নিয়ে ঘুরে যেতে হবে। ১৫ হাজার টাকা ভাড়া লাগবে। টাকার অঙ্ক শুনে আকাশ থেকে পড়ি। তাঁদের বলি, বিপদের সময় কোথায় পাশে দাঁড়াবেন। উল্টে পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন? আমার কথায় গাড়িচালকরা পাত্তা দিলেন না। কেউ বললেন, পাঙ্খাবাড়ির রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। কেউ আবার বললেন, দিলারামের কাছে ধস। যাওয়া যাবে না। আদৌ যে কী পরিস্থিতি, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ট্রেনের টিকিট তো ক্যানসেল করলাম। এখন বাসে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু তার আগে তো শিলিগুড়ি পৌঁছতে হবে!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ