অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রনেতাদের দাদাগিরি যতটা সামনে আসে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ ততটা আসে না। তবে এবার তেমনই একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এল। কসবা ল কলেজে গণধর্ষণ কাণ্ডের আবহে পুরুলিয়ার সিধো কানহু বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আর্থিক শোষণের বিচিত্র অভিযোগ এনেছেন একাধিক গবেষক। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণও মিলেছে বলে খবর। যদিও এনিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চায়নি কোনও পক্ষ।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক স্বপন মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন দুই গবেষক সুমন্ত দাস ও সত্যজিৎ রায় এবং পিএইচডি কোর্স ওয়ার্কের ছাত্রী বৈশাখী বর্মন। অভিযোগের বহর রীতিমতো বিচিত্র এবং গুরুতর। প্রথমত, অধ্যাপক নাকি তাঁর বই প্রকাশের জন্য গবেষক এবং ছাত্রছাত্রীদের থেকে অর্থসংগ্রহ করেছেন। বই প্রকাশের পর গবেষকদের তা কিনতে বাধ্যই শুধু করেননি, তাঁদের দিয়ে সেই বই বিক্রিও করিয়েছেন। এর জন্য রীতিমতো গবেষকদের বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। অধ্যাপকের জন্মদিন উদযাপনের ব্যানার, খাবার, উপহার সামগ্রীর যাবতীয় খরচও গবেষকদের থেকেই তিনি আদায় করেছেন। এমনকী, নিজের গাড়িভাড়া, বিকেলের খাবার সহ সংসারের দৈনন্দিন খরচও তাঁদের থেকে তিনি আদায় করেছেন বলে অভিযোগ কিছু গবেষকের।
অধ্যাপকের জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রকাশিত হয় ‘জীবনের পরশ মম’ নামে একটি স্মারকগ্রন্থ। সেটিও গবেষকদের অর্থেই প্রকাশিত বলে জানা গিয়েছে। এমনকী, অধ্যাপক ব্যক্তিগতভাবে একটি পিকনিকের আয়োজন করেন। তাতেও অর্থ জোগাতে বাধ্য হন গবেষকরা। বৈশাখী বর্মন সেই পিকনিকে যেতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে নাকি নিজের ভালোমন্দ বুঝে নিতে বলেন ওই অধ্যাপক। তাঁর শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও ঠাট্টা করেন। সুমন্ত দাসকেও বাধ্য করা হয় পিকনিকে যেতে। তিনি যাতে তাঁর বাবার ক্যান্সারের চিকিৎসায় সব টাকা খরচ না করে ফেলেন, এমন পরামর্শও উপযাচক হিসেবে তাঁকে দেন ওই অধ্যাপক। ভুক্তভোগীদের দাবি, আর্থিক চাপে দিশাহারা হয়ে অনেকে মানসিক ভারসাম্য হারানোর মতো অবস্থায় চলে এসেছেন।
শুধু এই তিনজনই নন, এর আগে উদয় সর্দার, রতনচন্দ্র হালদার, রাখী গড়াই, সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়, রূপা কুণ্ডু প্রমুখ গবেষকও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিটির বৈঠক করে স্বপনবাবুকে গবেষণা সংক্রান্ত যাবতীয় ক্রিয়াকলাপ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তদন্তের জন্য ও একটি কমিটি তৈরি করা হয়। তাদের একটি রিপোর্ট উপাচার্যের কাছে জমা পড়েছে বলে খবর। উপাচার্য পবিত্র চক্রবর্তীর ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিভাগীয় প্রধান ধ্রুবজ্যোতি পাল বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নচিকেতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত অধ্যাপক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘যা বলার আমি কমিটির কাছে বলেছি। সংবাদমাধ্যমে এনিয়ে কিছু বলব না। বিষয়টি এখনও কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন।’