


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাবা-মা ঘুমোচ্ছিল বাড়িতে। সেই সুযোগে বিকেল বেলা খেলতে বেরিয়েছিল ভাই -বোন। পুকুরের জলে পড়ে মৃত্যু হল দু’জনেরই। বৃহস্পতিবার দত্তপুকুর থানার নিবাধুই গঙ্গাপুর বৈশালী এলাকার দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতদের নাম তিথি ঋষি দাস (৮) ও সূর্য ঋষি দাস (৬)।
দত্তপুকুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের নিবাধুই গঙ্গাপুর বৈশালী এলাকায় বাড়ি বাপি ঋষি দাসের। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটের সময় ভাই-বোন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে। বাবা-মাকে ঘুমোতে দেখে কিছুক্ষণ পর ঘরের ছিটকানি খুলে তারা খেলতে বেরিয়ে পড়ে। বাড়ির পাশেই পুকুরের ধারে খেলছিল তারা। অনুমান, তখনই পুকুরের জলে পড়ে যায় দু’জনে। স্থানীয়দের কারও বিষয়টিতে নজর পড়েনি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পরও তাদের হদিশ না পেয়ে পরিবারের লোকজন দত্তপুকুর থানার দ্বারস্থ হন। পুলিসও খোঁজখবর শুরু করে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও দেখা হয়। কিন্তু পাওয়া যায়নি তিথি ও তার ভাই সূর্যকে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় বাড়ির পাশের ওই পুকুরের জলে ভাই, বোনকে ভাসতে দেখেন পরিবারের লোকজন ও পুলিস। তড়িঘড়ি তাদের নিয়ে আসা হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকরা দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। মর্মান্তিক ঘটনায় প্রতিবেশীরাও মর্মাহত। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বুকে চেপে ভাঙা গলায় বাবা বাপি ঋষি দাস বলেন, স্কুল থেকে ফেরার পর আমি ভাত খেতে বললাম। ওর মা তখন ঘুমোচ্ছিল। কিন্তু ভাতটাও খেল না। এরপর আমিও ঘুমিয়ে পড়ি টিভি দেখতে দেখতে। সেই ফাঁকেই ছেলেমেয়ে ঘরের ছিটকিনি খুলে খেলতে বেরিয়ে গিয়েছিল। প্রতিবেশী সমীরণ চক্রবর্তী বলেন, আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ওদের খেলতে দেখেছিলাম। পুকুরের ধারে চলে যাওয়াটাই কাল হল। নিজস্ব চিত্র