Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই ভালো ফল শ্যামপুরের সৌরদীপের

চার বছর আগে স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন জ্যাভলিনের ফলা মাথার বাঁদিকে ঢুকে গিয়েছিল সৌরদীপের।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই ভালো ফল শ্যামপুরের সৌরদীপের
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: চার বছর আগে স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন জ্যাভলিনের ফলা মাথার বাঁদিকে ঢুকে গিয়েছিল সৌরদীপের। সেই সময় সে মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল। এরপর প্রায় দু’মাস কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল তাকে। মাথায় তিনবার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেও পক্ষাঘাতে ছ’মাস শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল সৌরদীপ বেরাকে। তারপর ধীরে ধীরে বসা, দাঁড়ানো। তবে এখনও বাঁ পা টেনে চলে সে। বাঁ হাতেও জোর বিশেষ নেই। স্কেল ধরতেও সমস্যা হয়। স্বভাবতই এখনও তাকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতে হয়। এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েও এবার মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশেরও বেশি নম্বর পেয়ে পাশ করেছে শ্যামপুরের নাওদা নয়নচাঁদ বিদ্যাপীঠের ছাত্র সৌরদীপ বেরা। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৩৩।

Advertisement

শ্যামপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি সৌরদীপের। বাবা সতীশচন্দ্র বেরা কলকাতায় ফার্নিচারের দোকানে কাজ করেন। ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারির কথা মনে পড়লে এখনও শিউরে ওঠেন পরিবারের সদস্য থেকে স্কুলের শিক্ষকরা। প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন অন্যান্য বন্ধুর সঙ্গে মাঠের ধরে বসে খেলা দেখছিল সৌরদীপ। আচমকা এক প্রতিযোগীর ছোড়া জ্যাভলিন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার মাথায় লাগে। দ্রুত তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই অস্ত্রোপচার করে মাথা থেকে জ্যাভলিনের ফলা বেরা করা হয়। এরপর চলে দীর্ঘ চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি। দেড় বছর পর তার বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু। সৌরদীপ বরাবর পড়াশোনায় মেধাবী। মাধ্যমিক পাশের পর বিজ্ঞান নিয়ে একাদশে ভর্তি হয়েছে সে। তার লক্ষ্য, চিকিৎসক হওয়া। 
সৌরদীপের বাবা সতীশবাবু বলেন, একটা সময় কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের। ছেলে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় গর্বে বুক ভরে গিয়েছে। প্রধান শিক্ষক অরুণাভ বাজানি বলেন, সৌরদীপ ধাপে ধাপে উন্নতি করেছে। মাধ্যমিকে ও আমাদের স্কুলে তৃতীয় হয়েছে। সৌরদীপ দেখিয়ে দিয়েছে, মনের জোর থাকলে অসাধ্যকেও সাধন করা সম্ভব। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ