সুকান্ত বেরা, কলকাতা: দল হারলে সমর্থকদের হৃদয় রক্তাক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। কলকাতা নাইট রাইডার্সের সুপার ফ্যান অশোক চক্রবর্তী ব্যতিক্রমী নন। তবুও বুকে পাথর চেপে, গায়ে সোনালি-বেগুনি রং চড়িয়ে শুক্রবার ইডেনে হাজির নবদ্বীপের যুবক। মাথায় নবাবী টুপি। প্রিয় দলের পতাকা ওড়াতে ওড়াতে ক্রমাগত শঙ্খধ্বনিতে উজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নাইটদের।
রাসেল, নারিনরা কি শুনতে পাচ্ছেন? অশোক লাখো সমর্থকদের প্রতীক মাত্র। নাইটরা কবে বুঝবেন, তাঁদের হতশ্রী পারফরম্যান্সে কেকেআর জনতা কতটা কাতর। তবুও আশায় বাঁচে চাষা। অশোকও স্বপ্ন দেখছেন, শনিবার পালে হাওয়া বইবে। পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে নাইট রাইডার্স। ভেসে থাকবে প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা।
গত দুই ম্যাচে একই স্বপ্ন দেখেছিলেন নাইট সমর্থকরা। কিন্তু মাঠে নেমে ডি’কক, রাসেলরা ডুবিয়েছেন দলকে। পর পর দুই ম্যাচ হেরে প্রবল চাপে কেকেআর। আট ম্যাচে ঝুলিতে মাত্র ছয় পয়েন্ট। পাঞ্জাবের কাছে ফিরতি লড়াইয়ে হারলে ভেন্টিলেশনে ঢুকে পড়বে দল। কালবৈশাখীর দেখা নেই ঠিকই, কিন্তু আশঙ্কার কালো মেঘ ছেয়ে গিয়েছে নাইট শিবিরে। তাই পাঞ্জাব ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে অনুশীলনের ফাঁকে দফায় দফায় চলল আলোচনা। কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতকে দেখে মনে হল, বিশেষ কোনও পরিকল্পনায় মগ্ন তিনি। মঈন আলিও প্রেস কনফারেন্সে এসে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন। বোঝা যাচ্ছিল, দলে কিছু বদলের সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রথম একাদশে বদল ঘটিয়েই হয়তো পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে বদলা নিতে চাইছে নাইট রাইডার্স।
শনিবারের ম্যাচে রয়েছে নানা সমীকরণ। নাইটদের কাছে যেমন বদলার লড়াই, তেমনই শ্রেয়স আয়ারের কাছে মঞ্চটা কেকেআর কর্তাদের জবাব দেওয়ার। সুযোগ ছিল মাঠের বাইরে বীর-জারা শোয়েরও। কিন্তু সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ। পাঞ্জাব কিংসের মালকিন প্রীতি জিন্টা প্রতি ম্যাচেই মাঠে থেকে দলকে উজ্জীবিত করছেন। ইডেনেও তাঁর দর্শন মিলতে পারে। কিন্তু শাহরুখ খান কি আসবেন? কেকেআর শিবিরে খোঁজ নিয়ে বলিউড বাদশার আগমনী বার্তা পাওয়া গেল না। আসলে ডি’কক, বেঙ্কটেশরা যেভাবে দলকে ডোবাচ্ছেন, তা কি আর মাঠে বসে কি দেখতে ভালো লাগবে শাহরুখের?
ব্যাটসম্যানরাই মূলত ডোবাচ্ছে কেকেআরকে। রাসেল, বেঙ্কটেশদের নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। এর মধ্যেই প্র্যাকটিসে রভম্যান পাওয়েল, লাভনীত সিসোদিয়াদের দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে দেখা গেল। বোঝাই যাচ্ছিল, ব্যাটিং মজবুত করার কৌশল নিচ্ছে কেকেআর শিবির। আসলে পাঞ্জাবের বোলিং খুবই শক্তিশালী। পেসার অর্শদীপ সিং, মার্কো জানসেন ও জেভিয়ার বার্টলেকে সামলানো কঠিন। স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল ফর্মে ফিরেছেন। ইডেনের পিচ মন্থর হচ্ছে। সেক্ষেত্রে নাইটদের সমস্যা বাড়তে পারে। মুল্লানপুরের লড়াইয়ে যুজির স্পিনেই ধসে গিয়েছিল কেকেআরের ব্যাটিং। ইডেনেও তাই চাহাল আতঙ্ক তাড়া করছে নাইটদের। নাইট বোলারদের সামনে রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। শুরুতেই উইকেট ফেলতে হবে। কারণ, প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরণরা পাওয়ার প্লে’তে ঝড় তুলছেন। তারপর শ্রেয়সের ব্যাটে ভর করে রানের পাহাড় খাড়া করছে রিকি পন্টিংয়ের দল। তাই নতুন বলে এই তিন ব্যাটসম্যানকে ফেরাতে পারলে পাঞ্জাব চাপে পড়ে যাবে। একেবারেই ফর্মে নেই স্টোইনিস, ম্যাক্সওয়েল। তাই হাওয়া যতই বিপক্ষে থাকুক, জয়ের সরণিতে ফেরার সুযোগ রয়েছে নাইটদের সামনে।