নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নওদার আমতলার বাসিন্দা শেরফুল ইসলাম মণ্ডল নাতির পেটের সমস্যা নিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আউটডোরে ডাক্তার দেখান। নাতিকে দেখে গলব্লাডারে ইনফেকশনের কথা বলেন চিকিৎসক। হাসপাতালের আউটডোরের টিকিটে চিকিৎসক দুটি ওষুধ লিখে দেন। হাসপাতালের বিপরীত দিকে দোকান থেকে সেই ওষুধ কিনতে গিয়েই বিপত্তি। হাসপাতালের উল্টোদিকে একটি দোকান থেকে ওষুধ নেওয়ার পরেই সন্দেহ হয় ওই ব্যক্তির। তিনি চিকিৎসকের কাছে ওষুধ এবং আউটডোর টিকিটটি নিয়ে দেখান। চিকিৎসক জানিয়ে দেন যে, তিনি এই ওষুধ লেখেননি। তারপর শেরফুল সাহেব ওষুধটি ওই নির্দিষ্ট দোকানে ফেরত দিতে গেলে তার সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকী ওষুধটি ফেরত নেওয়া হয় না।
হাসপাতালের উল্টোদিকে গজিয়ে ওটা সারি সারি ওষুধের দোকানে সব সময়ই মানুষের ঢল লেগে থাকে। সেখানে তাড়াহুড়ো করে ওষুধ দেন দোকানের বিভিন্ন কর্মচারীরা। যাদের অধিকাংশেরই কোনও ফার্মাসি নিয়ে পড়াশোনা নেই বলেই অভিযোগ। এক ওষুধের বদলে অন্য ওষুধ দেওয়ার ঘটনা সামনে আসতে রীতিমতো চাঞ্চল্য শুরু হয়। ওই ওষুধের দোকানদার ওষুধ ফেরত না নেওয়ায় শেরফুল সাহেব অভিযোগ জানাতে সরাসরি চলে যান হাসপাতালের সুপারের কাছে। যদিও হাসপাতালের বাইরের ব্যাপার বলে সুপার তাঁকে অন্যত্র যেতে বলেন।
শেরফুল সাহেব পরে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ জানায়। ওই দপ্তর অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এই ব্যাপারে বহরমপুরের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কোনও দোকানদার এইরকম ঘটনা ঘটায়, অবশ্যই আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।
শেরফুলসাহেব বলেন, আমার নাতির গলব্লাডারে ইনফেকশন হয়েছে বলে ডাক্তার জানাল। ওর জন্য দুটো ওষুধ লিখে দিয়েছিলেন তিনি। সে ওষুধ কিনতে গিয়েই দেখছি অন্য ওষুধ দিয়েছে। তখন আমরা প্রতিবাদ করাতে ওষুধ ফেরত নেয়নি। আমি অন্য দোকান থেকে ওই ওষুধ কিনলাম। যার দাম পড়েছে ৩৯০ টাকা। আর হাসপাতালে উল্টোদিকে দোকান থেকে যে ওষুধ কিনেছিলাম তার দাম ছিল মাত্র ৯০ টাকার কাছাকাছি ওষুধের দাম নিয়েছিল। সেটা দেখে আমার সন্দেহ হয়েছিল। ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। অবিলম্বে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত মেডিক্যালে চিকিৎসা করাতে আসা ব্যক্তিরা। বেলডাঙার বাসিন্দা প্রভাস ঘোষ বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার অনেক মানুষ পড়াশোনা জানে না। তারা ডাক্তারের লেখা প্রেসক্রিপশন ওষুধের দোকানে দিয়ে দেয়। দোকানদারেরা যা ওষুধ দেয় সেটাই ভরসা করে সেবন করতে থাকে। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তো মহাবিপদ। এক রোগের জায়গায় যদি অন্য ওষুধ দিয়ে দেয়, তাহলে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় খুব সমস্যা হতে পারে।