ঢাকা: গত বছর আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন নাকি তিনি খুন হয়েছিলেন। তাঁকে খুনের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পুলিস ‘মৃত’ ব্যক্তির বাড়িতে তদন্ত করতে যেতেই চমক। দেখা যাচ্ছে, দিব্যি বেঁচেবর্তে রয়েছেন সেই ব্যক্তি। এমনকী নিজের দোকানে বসে ব্যবসাও করছেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। একজন বেঁচে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁকেই খুনের মামলা দায়ের হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পারিবারিক গোলমালের জেরেই ওই ব্যক্তিকে ‘মৃত’ প্রতিপন্ন করে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল তাঁর দাদারা। তার জন্যই রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে খুনের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।
আন্দোলনের চাপে দেশছাড়া হওয়ার পর থেকেই হাসিনার বিরুদ্ধে মুড়ি-মুড়কির মতো খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। আওয়ামি লিগের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এসব মামলা করা হয়েছে। যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। যদিও তা মানতে রাজি হয়নি ইউনুস সরকার। ময়মনসিংহের ঘটনার পর ফের হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন মামলার সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ধামর বেলতলি বাজারের মুদির দোকান রয়েছে সোলাইমান হোসেন সেলিমের। তাঁর দাদা গোলাম মোস্তাফা পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন যে, গত বছর ঢাকার যাত্রাবাড়িতে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তাতে মৃত্যু হয় সেলিমের। ব্যবসার কাজে ভাই ঢাকায় গিয়েছিলেন বলেও পুলিসকে জানিয়েছিলেন মোস্তাফা। মামলার সাক্ষী ছিলেন সেলিমের অন্য দুই দাদা। মামলায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা। এছাড়া আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াবেদুল কাদের, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়। ময়মনসিংহ পুলিস এই বিষয়ে বিশদে খোঁজখবর করতে গিয়েই বিষয়টি ফাঁস হয়। সেলিমের দাবি, এই মামলার সুযোগে হয়তো তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এখন তিনি যে বেঁচে রয়েছেন, তা প্রমাণ করতে বারবার ঢাকায় পুলিসের কাছে যেতে হচ্ছে।