Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

লজ্জা! কাঁদছে ইতালি, টানা তিনটি বিশ্বকাপে নেই আজ্জুরিরা

গায়ে দেশের জার্সিটা তখনও চাপানো। সারারাত হোটেলের বাইরেই কাটিয়েছেন ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় সেফ আলদো জিল্লি। বয়সের ভারে দৃষ্টিশক্তি কমেছে।

লজ্জা! কাঁদছে ইতালি, টানা তিনটি বিশ্বকাপে নেই আজ্জুরিরা
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বসনিয়া-হার্জেগোভিনা- ১             :               ইতালি- ১
(টাই-ব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে জয়ী বসনিয়া)

Advertisement

জেনিকা: গায়ে দেশের জার্সিটা তখনও চাপানো। সারারাত হোটেলের বাইরেই কাটিয়েছেন ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় সেফ আলদো জিল্লি। বয়সের ভারে দৃষ্টিশক্তি কমেছে। তবে দেশের ফুটবলের প্রতি আবেগ আজও তাঁর একই। চোখ থেকে অনর্গল বয়ে চলেছে জল। টানা তৃতীয়বার ইতালি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হতেই রাগে, অভিমানে বর্তমান ফুটবলারদের মায়ের কোলের শিশুর সঙ্গে তুলনা টানলেন ৭০ বছর বয়সি জিল্লি। তাঁর সাফ মন্তব্য, ‘যোগ্য দল হিসেবেই বসনিয়া-হার্জেগোভিনা মূলপর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এদের কারো ইতালির জার্সি গায়ে চাপানোর অধিকার নেই।’
২০১৮, ২০২২ এরপর ২০২৬—  টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ মালদিনি-ডেল পিয়েরোদের দেশ। আর সেই কষ্ট কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে দেশবাসীকে। মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে টাই-ব্রেকারে হেরে আবারও স্বপ্নভঙ্গ আজ্জুরিদের। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার লজ্জার রেকর্ড গড়ল ইতালি। আর তাই মঙ্গলবার ম্যাচ শেষেই বিভিন্ন রেস্তরাঁয় ভাঙচুর চলে। শুধু তাই নয়, মিলান সহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ দেখান সমর্থকরা। 
দেশকে বিশ্বকাপে তুললে না পারায় যন্ত্রণায় জ্বলছেন ফুটবলাররাও। ম্যাচ শেষে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ডোনারুমা, মানচিনিরা। প্লে-অফের ফাইনালের শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল ইতালি। ১৫ মিনিটে দুরন্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন মোয়েজ কিন (১-০)। তবে প্রথমার্ধের শেষলগ্নে আলেজান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তেই তাল কাটে। একজন কম নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্গ অক্ষত রাখার লড়াই চালান মার্কো পালেস্ত্রা, রিকার্ডো কালাফিয়েরোরা। তবে আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭৯ মিনিটে লড়াইয়ে ফেরে বসনিয়া। কর্নার থেকে ভাসানো শটে এডিন জেকোর হেড প্রথম প্রচেষ্টায় রুখে দেন ডোনারুমা। তবে সেই বল জালে ঠেলতে ভুল করেননি হ্যারিস তাবাকোভিচ (১-১)।
নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়েও স্কোরলাইনে আর কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। তবে টাই-ব্রেকারে স্নায়ুর চাপ বজায় রেখে শেষ হাসি হাসে সের্গে বারবাজের ছেলেরা। এই পর্বে বসনিয়ার হয়ে বল জালে জড়ান যথাক্রমে বেঞ্জামিন, তাবাকোভিচ, আলাবেগোভিচ ও বাজরাতারেভিচ। আর ইতালির হয়ে স্যান্ড্রো তোনালি লক্ষ্যভেদে সফল হলেও এস্পোসিতো এবং ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে মিস করতেই ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায় বসনিয়া-হার্জেগোভিনার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ