Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর আবহে ভার্চুয়াল বৈঠকে জেলাশাসকদের বার্তা দিতে চান শাহ, রাজ্যকে এড়িয়ে কেন্দ্রের ‘ফতোয়া’ নিয়ে ক্ষুব্ধ নবান্নের শীর্ষমহল

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভার্চুয়াল কনফারেন্সে উপস্থিত থাকতে হবে জেলাশাসকদের। এসআইআর আবহে এমনই ‘ফতোয়া’ জারি করেছে কেন্দ্র।

এসআইআর আবহে ভার্চুয়াল বৈঠকে  জেলাশাসকদের বার্তা দিতে চান শাহ, রাজ্যকে এড়িয়ে কেন্দ্রের ‘ফতোয়া’ নিয়ে  ক্ষুব্ধ নবান্নের শীর্ষমহল
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভার্চুয়াল কনফারেন্সে উপস্থিত থাকতে হবে জেলাশাসকদের। এসআইআর আবহে এমনই ‘ফতোয়া’ জারি করেছে কেন্দ্র। নবান্নকে এড়িয়ে সরাসরি জেলাশাসকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা দেওয়ার বিষয়টি একেবারেই ভালোভাবে নিচ্ছে না রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষমহল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজ্যের দৈনন্দিন কার্যকলাপে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের চক্রান্ত চলছে বলেও মনে করছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Advertisement

এবছর দিল্লির রাজপথে সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এনডিএমএ) একটি ট্যাবলো থাকছে। সেটি দেখার জন্য বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে যুক্ত ‘আপদমিত্র’ স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারই আমন্ত্রণ জানাতে অনুষ্ঠানের ঠিক একদিন আগে সরাসরি তাঁদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বার্তা দেবেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে গ্রামেগঞ্জে কাজ করা ‘আপদমিত্র’রাই শুধু সেই ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিলে হবে না, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। ৫ জানুয়ারি নবান্নকে দেওয়া চিঠিতে এমনই জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ এনডিএমএ’র সচিব মণীশ ভরদ্বাজ। এখানেই শেষ নয়! নবান্নের তরফে এ বিষয়ে কিছু না জানানোয় ১২ জানুয়ারি সরাসরি জেলাশাসকদের চিঠি পাঠায় কেন্দ্র। চিঠি পাঠানো হয়েছে আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম, কোচবিহার, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, হুগলি, হাওড়া, জলপাইগুড়ি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং কালিম্পং জেলাকে। চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রের আন্ডার সেক্রেটারি সন্দীপকুমার শর্মা।

চিঠির আরও একটি বিষয় নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ রাজ্যের প্রশাসনিক মহল। ভার্চুয়াল বার্তায় যোগ দিতে ‘লগ-ইন নেম’ বা অমিত শাহের সামনে থাকা স্ক্রিনে রাজ্য এবং জেলার নাম কীভাবে ভেসে উঠবে, তাও উদাহরণ সহ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাজ্য হিসেবে গুজরাত এবং জেলা হিসেবে সেই রাজ্যেরই ভাদোদরার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের প্রশ্ন, এ রাজ্যে প্রায় ৭,৩০০ ‘আপদমিত্র’ স্বেচ্ছাসেবক আছেন, যাঁরা বিনা পারিশ্রমিকে জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। দেশের অন্যান্য রাজ্যও এই কাজে যথেষ্ট এগিয়ে। তাহলে বেছে বেছে মোদি-শাহের রাজ্য এবং জেলার নামই কেন উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হল? এই অবস্থায় সোমবার পরীক্ষামূলকভাবে ভার্চুয়াল কনফারেন্স করেছে কেন্দ্র। তবে সেখানে এ রাজ্যের কোনও জেলাই যোগ দেয়নি বলে সূত্রের খবর।

শুধু ‘আপদমিত্র’দের আমন্ত্রণ জানাতেই কি এই ভার্চুয়াল কনফারেন্সের আয়োজন? বিষয়টি মেনে নিতে কিছুটা অসুবিধাই হচ্ছে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের। তাঁদের মতে, এক্ষেত্রে একটি চিঠি বা খুব বেশি হলে সচিব পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকই যথেষ্ট ছিল। তাই তাঁরা মনে করছেন, রাজ্যকে এড়িয়ে জেলাশাসকদের মাধ্যমে এভাবেই নিজেদের মতাদর্শ তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে চাইছেন গেরুয়া শিবিরের ‘সেকেন্ড ম্যান’। যখন জেলাশাসকরা এসআইআর নিয়ে চূড়ান্ত ব্যাস্ত, আর নির্বাচনও একেবারে দোরগোড়ায়, তখন কেন্দ্রের এমন বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। নবান্ন একে রাজ্যের অধিকারের উপর আঘাত হিসেবে দেখছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ