Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে গোঁসাই নিগ্রহে গ্রেপ্তার কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী

ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া সম্প্রদায়ের সাধু-গোঁসাইদের মারধরের ঘটনায় এক বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করল গাইঘাটা থানার পুলিশ।

মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে গোঁসাই নিগ্রহে  গ্রেপ্তার কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০১
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া সম্প্রদায়ের সাধু-গোঁসাইদের মারধরের ঘটনায় এক বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করল গাইঘাটা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম হারাধন হালদার। শনিবার বাগদার হেলেঞ্চা এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে। বাগদার বৈঁচিডাঙার বাসিন্দা তিনি। ঘটনার দিন মতুয়া গোঁসাইদের প্রকাশ্যে মারধর করতে দেখা গিয়েছিল। শান্তনু ঠাকুরের এই ‘ছায়াসঙ্গী’ নেতা তাতেই অভিযুক্ত। ধৃতের বিরুদ্ধে মারধর, হুমকিসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। রবিবার আদালত ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠিয়েছে। তবে, এদিন তাঁকে গাইঘাটা থানায় আনা হলে পুলিশের উদ্দেশে জোড়হাত করতেও দেখা যায় হারাধনবাবুকে।

Advertisement

এসআইআর ২০২৬-এ বহু মতুয়া ভক্তের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই পর্বে ২৪ ডিসেম্বর শান্তনু ঠাকুরের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গিয়েছিলেন মমতা ঠাকুর গোষ্ঠীর মতুয়া সদস্যরা। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। শান্তনু ঠাকুরের ঘনিষ্ঠরা তাঁদের বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মমতাপন্থী মতুয়া সংঘের পক্ষ থেকে ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। আগেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিজেপি নেতা হারাধন হালদারকে গ্রেপ্তার করা হল। এনিয়ে মমতা ঠাকুর বলেন, ‘পুলিশ তাদের কাজ করছে। আমরা চাই অভিযুক্ত সকলেই গ্রেপ্তার করা হোক।’ এদিকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু ‘দলদাস’ পুলিশ বেছে বেছে একপক্ষকেই গ্রেপ্তার করছে।’
এদিকে আগামী ৯ জানুয়ারি ঠাকুরবাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসাকে কেন্দ্র করে শান্তনু ঠাকুর ‘ফতোয়া’ জারি করেন। তাঁর মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে তৃণমূল। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘৩৪ বছরে সিপিএমকে আমরা ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছি। শুধু কয়েকটা টিভি চ্যানেলে কুকথা বা জ্বালা ধরানো বক্তব্য রেখে মহান নেতা হওয়া যায় না। এই চক্রান্ত ব্যর্থ করতে আমাদের সময় লাগবে না। উপযুক্ত জবাব দিতেই প্রস্তুত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা ওদের মতো হতে চাই না। আমরা মানুষের সেবা করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘পয়সার বিনিময়ে মতুয়া কার্ড দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন ওঁরা। মতুয়াদের ব্যবহার করে ওঁরা পুঁজিপতি হয়েছেন।’ 
এদিকে, ঠাকুরবাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়ের আসায় বাধা পড়লে ‘রক্তগঙ্গা’ বয়ে যাওয়ার কথা ক’দিন আগে বলেছিলেন তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরী। এই কথার জন্য তিনি ক্ষমাও চাইলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ