Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ধনী ব্যবসায়ী সেজে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে ফাঁদ, গোটা পরিবারকে বোকা বানিয়ে ৪৪ লক্ষ লোপাট শাদি গ্যাংয়ের

ধনী ব্যবসায়ী সেজে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে বিয়ের ফাঁদ! ঝকঝকে প্রোফাইলে দক্ষিণী নায়ক-মডেলের ছবি! চোখ আটকাতে বাধ্য। এগিয়ে আসে হুগলির সিঙ্গুর এলাকার কন্যাদায়গ্রস্ত এক সম্ভ্রান্ত পরিবার।

ধনী ব্যবসায়ী সেজে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে ফাঁদ, গোটা পরিবারকে বোকা বানিয়ে ৪৪ লক্ষ লোপাট শাদি গ্যাংয়ের
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৭
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ধনী ব্যবসায়ী সেজে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে বিয়ের ফাঁদ! ঝকঝকে প্রোফাইলে দক্ষিণী নায়ক-মডেলের ছবি! চোখ আটকাতে বাধ্য। এগিয়ে আসে হুগলির সিঙ্গুর এলাকার কন্যাদায়গ্রস্ত এক সম্ভ্রান্ত পরিবার। মিষ্টভাষী হবু পাত্র ও তার সঙ্গীদের ব্যবহারে ‘মোহিত’ সবাই। অল্পদিনেই যুবতী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রিয় পাত্র হয়ে উঠলেন ওই যুবক। অপেক্ষা ছিল এই সময়টারই। বেরিয়ে এল ‘স্বমূর্তি’। ‘পাত্র’ এবং তার সঙ্গীদের। হুগলির ওই যুবতী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নানা অছিলায় শুরু হল অর্থ আত্মসাতের কারবার। প্রতারক ওই ‘শাদি গ্যাং’-এর খপ্পরে পড়ে নয় নয় করে ৪৪ লক্ষ টাকা খুইয়েছে হুগলির ওই পরিবার। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্যাংয়ের দুই সদস্য অভিষেক রায় ও জাহির আব্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। হদিশ মিলেছে সাড়ে ছ’লক্ষ টাকার। তবে বাকি টাকা এবং গ্যাংয়ের পান্ডার খোঁজ এখনও মেলেনি। পান্ডা অর্থাৎ, অনুপম রায়। ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে পাত্র সেজে প্রতারণার জাল পেতে বসা যুবক। পুলিস জেনেছে, সিঙ্গুরের ওই যুবতী ছাড়া আরও পাঁচ পরিবার ‘শাদি গ্যাং’-এর প্রতারণার শিকার হয়েছেন। 

Advertisement

হুগলির অতিরিক্ত পুলিস সুপার কল্যাণ সরকার শুক্রবার সিঙ্গুরে সাংবাদিকদের জানান, ২৬ মে এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়। জনপ্রিয় একটি ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে ২০২৪ সালে সিঙ্গুরের ওই যুবতী একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেখানেই পরিচয় হয় অনুপম রায় নামে এক যুবকের সঙ্গে। নিজেকে কয়েকটি রাইস মিলের মালিক হিসেবে পরিচয় দেয় সে। ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় সিঙ্গুরের ওই যুবতীর সঙ্গে। যুবতীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দুই শাগরেদ অভিষেক ও জাহিরকে ম্যানেজার হিসেবে পরিচয়ও করিয়ে দেয় ওই ব্যক্তি। 
পুলিস জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় অনুপম রায় নামধারী ওই যুবক সিঙ্গুরের যুবতীর পরিবারকে জানায়, জিএসটি জমা দিতে না পারায় সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ হয়েছে। টাকার প্রয়োজন। যুবতীর পরিবারের লোকজন যাঁর কাছে যা ছিল, একত্র করে ৪৪ লক্ষ টাকা প্রতারক চক্রের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেন তাঁরা। এরপরই ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয় ওই প্রতারক। ফোনেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। যুবতী ও তাঁর পরিবার বুঝতে পারে, এই জাল প্রতারণার। পুলিসের দ্বারস্থ হন তাঁরা। তদন্তে নেমে টাকা লেনদেনের তথ্য দেখে অভিষেক রায় নামে একজনকে চিহ্নিত করা হয়। বাড়ি ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে। গড়িয়াতেও তার একটি ঠিকানা রয়েছে। গত ৩ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় অভিষেককে। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে আরও একটি নাম—জাহির আব্বাস। খানাকুল থেকে ১০ জুলাই গ্রেপ্তার হয় তাকেও। 

সম্পর্কিত সংবাদ