সোহম কর, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এক সুরে গলা মেলাতে দেখা গিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলিকে। কিন্তু সেই ‘মিল’ কার্যত আটকে রইল শুধু যাদবপুরেই! ভগৎ সিংয়ের শহিদ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে বেপাত্তা হয়ে গেল সেই সাদৃশ্য। শনিবার এসইউসিআইয়ের ছাত্র সংগঠন ডিএসও ভগত্ সিংকে নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন সিপিআই, সিপিআই (এমএল), আরএসপির ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। কিন্তু আমন্ত্রণ পেয়েও সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের কোনও প্রতিনিধি সেখানে আসেননি। ডিএসওর তরফে জানানো হয়েছে, এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাসকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। তিনি এদিন কলকাতায় থাকবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু সেমিনারে অনুপস্থিতির কারণ কি শুধুই কলকাতায় না থাকা? নাকি এর পিছনে অন্য কারণও আছে? সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে কলেজ স্ট্রিটে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। সেখানে ডিএসও-কে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ওই সমাবেশে ছাত্র পরিষদও আমন্ত্রিত ছিল বলে ডিএসও আসেনি। ডিএসও’র অনেকে মনে করেন, ওই ঘটনার পর থেকে এসএফআই তাদের ডাকে সাড়া দেয় না। কয়েক মাস আগে দিল্লিতে তাদের সংগঠনের জাতীয় সম্মেলনেও এসএফআই আসেনি। ডিএসওর রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিত্ রায় বলেন, ‘আমরা তো ডেকেছিলাম। না এলে কী করব! আমরা বাম ঐক্য রাখতে চাই। যাদবপুরের ইস্যুতে আমরা অনেক বিষয়ে একমত ছিলাম। কিন্তু ওরা এক্ষেত্রে সাড়া দেয়নি।’ তাহলে কি বড়দের রাজনৈতিক সংঘাত ছাত্র সংগঠনেও এসে পড়ছে? বিশ্বজিত্ বলছেন, ‘এটাও একটা কারণ হতে পারে।’ এসএফআইয়ের সম্পাদক ময়ূখ এই মুহূর্তে দিল্লিতে। তিনি বলেন, ‘এসইউসি বাম ঐক্যের উদ্যোগ বা বামফ্রন্টে নেই। আমরা তো আইসার সঙ্গে কাজ করছি। কিছুদিন পর ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ছাত্র সংগঠনের বৈঠক আছে। সেখানে ডিএসও নেই। যারা অতীতে ছিল না, তারা কী বলল, যায় আসে না। ওরা তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজ্যে লড়াই করেছিল। কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার সময়েও ওরা আসেনি।’ ফলে আপাতত যাদবপুর ছাড়া অন্যত্র বাম ছাত্র সংগঠনের ঐক্যের দফারফা অবস্থা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।