Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেললাইনের নীচে বসবে নিকাশি পাইপ, অনুমতি নিতে তোড়জোড়

মাত্র ১৪০ মিটার! মাঝেরহাটে রেললাইনের নীচে এই টুকু অংশে নিকাশি পাইপলাইন পাতাই এখন পুরসভার অন্যতম মাথাব্যথা। কারণ, এর জন্য লাগবে রেলের অনুমোদন। সেই অনুমোদন তাড়াতাড়ি মিলবে নাকি টালবাহানা চলতে থাকবে, আপাতত সেই চিন্তাই করতে হচ্ছে কলকাতা পুর কর্তৃপক্ষকে।

রেললাইনের নীচে বসবে নিকাশি  পাইপ, অনুমতি নিতে তোড়জোড়
  • ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র ১৪০ মিটার! মাঝেরহাটে রেললাইনের নীচে এই টুকু অংশে নিকাশি পাইপলাইন পাতাই এখন পুরসভার অন্যতম মাথাব্যথা। কারণ, এর জন্য লাগবে রেলের অনুমোদন। সেই অনুমোদন তাড়াতাড়ি মিলবে নাকি টালবাহানা চলতে থাকবে, আপাতত সেই চিন্তাই করতে হচ্ছে কলকাতা পুর কর্তৃপক্ষকে। 

Advertisement

মাঝেরহাট, মিন্ট কলোনি, তারাতলা সহ নিউ আলিপুরের একাংশে জল জমার সমস্যা মেটাতে টাঁকশালের জমিতে একটি নিকাশি পাম্পিং স্টেশন গড়ছে কলকাতা পুরসভা। কাজ অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। রাস্তার সিংহভাগ অংশে নিকাশি পাইপলাইন পাতার কাজ সম্পূর্ণ। এবার মাঝেরহাটে রেললাইনের নীচ দিয়ে নিয়ে যেতে হবে পাইপ। তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে পুরসভা। 
মূলত মিন্ট কলোনি, সংলগ্ন গোড়াগাছা রোড সহ মাঝেরহাট এবং তারাতলার বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষায় জল জমার সমস্যা প্রবল। ওই অঞ্চলের এই সমস্যা মেটাতে বছর দু’য়েক আগে মিন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুরসভার বৈঠক হয়। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষও ছিল সেই বৈঠকে। তাদের অনুমতিক্রমে মিন্ট কলোনিতে নিকাশি পাম্পিং স্টেশন তৈরির জমি হাতে পায় পুরসভা। কিছু সমস্যায় পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ থমকেছিল। এখন তা ফের শুরু হয়েছে। কুঁয়ো তৈরির কাজ সম্পন্ন। পাম্পিং স্টেশনের জল নিকটবর্তী খালে ফেলতে দু’টি ডেলিভারি লাইন তৈরি করা হচ্ছে। একটি লাইন গোড়াগাছা রোড, হেলেন কেলার রোড, বন্দরের জমি হয়ে মাঝেরহাটে রেললাইনের নীচ দিয়ে গিয়ে চেতলা বোট ক্যানালে পড়বে। ইতিমধ্যে পাম্পিং স্টেশন থেকে অনেকটা অংশে এই পাইপলাইন পাতা হয়ে গিয়েছে। এবার রেলের অনুমতি মিললেই বাকি কাজ শেষ করা যাবে বলে আশাবাদী পুরসভা। নিকাশি বিভাগ সূত্রে খবর, রেলের সার্ভেয়ারদের দিয়ে পুরসভা ওই চত্বরে সমীক্ষা করিয়েছে আগেই। রেললাইনের নীচ দিয়ে ১৪০ মিটার দীর্ঘ পাইপলাইন বসাতে গেলে কত খরচ হতে পারে, কীভাবে কাজ করতে হবে—তার রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। রেলের তরফে ওই অংশের মৌজা ম্যাপ চাওয়া হয়েছে। অনুমোদনের জন্য রেলের বিশেষ ওয়েবসাইটে এসব নথি আপলোড করতে হয়। পুরসভার নিকাশি বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘পাম্পিং স্টেশন থেকে চেতলা বোট ক্যানাল পর্যন্ত মোট ৭০০ মিটার ডেলিভারি পাইপলাইন পাততে হবে। এর মধ্যে রেললাইনের নীচে ১৪০ মিটার পাততে হবে পাইপ। ওটা ছাড়া আর ৫০ মিটার মতো কাজ বাকি রয়েছে। এখন রেল কত দিনে অনুমোদন দেবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।’ ওই ১৪০ মিটার অংশে ভূপৃষ্ঠের প্রায় পাঁচ মিটার নীচ দিয়ে পাইপলাইন নিয়ে যেতে হবে বলে জানান তিনি। 
যদিও ইতিমধ্যে পুরসভা বিকল্প চিন্তাভাবনাও শুরু করে দিয়েছে বলে খবর। আরও একটি ডেলিভারি লাইন তারাতলা হয়ে সিপিটি ক্যানাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রেল অনুমোদন দিতে দেরি করলেও যাতে এই ডেলিভারি লাইনের মাধ্যমে চলতি বছর বর্ষার আগেই পাম্পিং স্টেশন চালু করে দেওয়া যায়, তার জন্য এই উদ্যোগ। 

সম্পর্কিত সংবাদ