Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় তীব্র দাবদাহ, হু হু করে নামছে জলস্তর

বাঁকুড়ায় তীব্র দাবদাহ,  হু হু করে নামছে জলস্তর
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দাবদাহে বাঁকুড়াবাসীর নাভিশ্বাস উঠছে। সম্প্রতি কালবৈশাখীর জেরে আবহাওয়া কিছুট অনুকূল হওয়ায় জেলার মানুষ স্বস্তি পেয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় দফায় গ্রীষ্ম কার্যত আগুন ঝরাচ্ছে। জেলার নদনদী ও জলাশয় শুকিয়ে কাঠ হতে চলেছে। জেলার প্রধান নদনদী দ্বারকেশ্বর, গন্ধেশ্বরী, কংসাবতী, শীলাবতীর জলস্তর হু হু করে কমছে। ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের স্তরও পাল্লা দিয়ে নামছে। ফলে অনেক জায়গায় নলকূপ থেকে জল মিলছে না।

Advertisement

এমন পরিস্থিতিতে জেলায় পানীয় জলের জোগান নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। বিশেষত জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের(পিএইচই) প্রকল্প এলাকা থেকে যে সমস্ত এলাকা ভুলবশত বাদ পড়ে গিয়েছে, সেখানকার মানুষজন বেশি সমস্যায় পড়েছেন। বাঁকুড়ার পাঁচার, ইছারিয়া সহ নানা গ্রামের মানুষ প্রচণ্ড জলকষ্টে ভুগছেন।
ইছারিয়া গ্রামের বাসিন্দা তথা তৃণমূলের জয়হিন্দ বাহিনীর জেলা সভাপতি সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, পিএইচই’র তরফে পানীয় জলপ্রকল্প তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, কয়েকটি গ্রাম প্রকল্প থেকে ভুলবশত বাদ পড়ে যায়। আশপাশের গ্রামে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ শুরু হলেও এই গ্রামের মানুষ তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরকে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে।
পিএইচই’র সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সুজয় বাড়ুই বলেন, যে সমস্ত এলাকা জলপ্রকল্পের সুবিধা পায়নি, সেখানে পানীয় জল সরবরাহ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ডিপিআর পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদিত হলে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। উল্লেখ্য, বাঁকুড়া জেলা বরাবর খরা প্রবণ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এজেলার পশ্চিম দিকের ব্লকগুলির মধ্যে ইন্দপুর, হীড়বাঁধ, ছাতনা, শালতোড়ার পাশাপাশি বাঁকুড়া-১, ২, তালডাংরা, বড়জোড়া, সোনামুখী এবং ওন্দা ব্লকের একাংশেও জলের টান রয়েছে। গরম পড়লেই ওইসব ব্লকে ভূগর্ভস্থ জল স্তর দ্রুত কমতে শুরু করে। তারফলে পানীয় জলের জোগানে টান পড়ে।
ছাতনার বাসিন্দা শ্যামলী রজক বলেন, আমাদের এলাকার পানীয় জলেরস্তর নেমে গিয়েছে। নলকূপগুলি বিকল হচ্ছে। তার জেরে বাসিন্দাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দূরের সাবমার্সিবল থেকে জল এনে খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
জেলার বিস্তীর্ণ অংশের মাটি পাথুরে ও লাল কাঁকরযুক্ত। খরা প্রবণ ব্লকগুলির বেশিরভাগ জায়গায় বর্ষার জল ধরে রাখার মতো কাদামাটি নেই বললেই চলে। ফলে বর্ষার সময় নদনদীগুলিতে হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। কয়েকদিনের মধ্যে আবার ফের নদনদীগুলি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। এর থেকে পরিত্রাণের পথ কী? আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, একমাত্র জায়গায় জায়গায় চেকড্যাম ও যত বেশি সম্ভব জলাশয় খনন করে জল ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্য সরকারের তরফে জলবিভাজিকা প্রকল্পের আওতায় বর্ষার জল ধরে রাখার বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, বর্তমানে অর্থের অভাবে নতুন করে সেভাবে প্রকল্প নেওয়া হয় না। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, গ্রীষ্মের মরশুমে আমরা নতুন করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। কীভাবে বর্ষার জল ধরে রাখা যায়, তা দেখা হচ্ছে।
বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, গন্ধেশ্বরী-দ্বারকেশ্বর প্রকল্প রূপায়িত হলে জেলায় পানীয় জল ও চাষের জন্য সেচের সমস্যা অনেকটাই মিটবে। এব্যাপারে আমি কেন্দ্র ও রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি লিখেছি। লোকসভার বিতর্কেও বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রেখেছি।  বাঁকুড়ার পাচাল এলাকায় নলকূপ বিকল হয়ে পড়ছে। জল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ