নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: শনিবার রাতে আরামবাগের গৌরহাটি বাজারে আগুন লেগে একাধিক দোকান ভস্মীভূত হয়। স্টেশনারি, সেলুন, ইলেক্ট্রিক, গোডাউন, খাসির মাংস সহ একাধিক দোকানে আগুন লেগে যায়। অধিকাংশ দোকান পুড়ে গিয়েছে। বহু টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ভেঙে পড়েছেন। তাঁরা প্রশাসনিক সাহায্যের আর্জিও জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন সন্ধ্যায় আরামবাগ বন্দর রাস্তায় গৌরহাটিতে মাছের বাজার সংলগ্ন একটি দোকানে আগুন লাগে। সেখান থেকে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। কিন্তু, আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সেই কাজে সমস্যা হয়। আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ভিড় করেন। দ্রুত এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আগুন লাগার জেরে আরামবাগ থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পুলিস আসে। দমকলে খবর দেওয়া হলে আরামবাগ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ও তারকেশ্বর থেকে একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ঘণ্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও ততক্ষণে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়। দোকানে থাকা নানা আসবাবপত্র ও সামগ্রী পুড়ে গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দমকলের ইঞ্জিন দেরি করে আসায় আগুন আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। আরামবাগ দমকল কেন্দ্রের এক আধিকারিক বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই ইঞ্জিন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। আরামবাগ শহরের যানজটের জেরে অনেক ক্ষেত্রেই সময় লাগে। ইঞ্জিনগুলি সেখানে পৌঁছেই দ্রুত আগুন নেভায়।
স্টেশনারি দোকানের মালিক অসিত দেবনাথ বলেন, তখন দোকানেই ছিলাম। আমার পাশের একটি স্টেশনারি দোকান বন্ধ ছিল। পথ চলতি মানুষ সেখান থেকে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে জানান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার দোকানেও আগুন লেগে যায়। দোকান থেকে কোনও সামগ্রী বের করতে পারিনি। দোকানে থাকা ফ্রিজ, ক্যাশ বাক্স সহ সব কিছুই ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। বাকি কয়েকটি দোকানেও একই অবস্থা। আমাদের সংসার চলত এই দোকান থেকেই। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। ব্যবসায়ীরা বলেন, এর আগে এভাবে আগুন লাগেনি। তাই প্রায় প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন সাহায্য না করলে খুবই সমস্যা হবে।