Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

সেবা

কোন ব্যক্তিই যুগপৎ দুজন প্রভুকে সেবা করতে পারে না। কারণ হয় সে একজনকে ঘৃণা করে অপরকে ভালবাসবে অথবা একজনের প্রতি অনুরক্ত হয়ে অপরকে অবহেলা করবে।

সেবা
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কোন ব্যক্তিই যুগপৎ দুজন প্রভুকে সেবা করতে পারে না। কারণ হয় সে একজনকে ঘৃণা করে অপরকে ভালবাসবে অথবা একজনের প্রতি অনুরক্ত হয়ে অপরকে অবহেলা করবে। তোমরা ঈশ্বর ও বিত্তদেবতাকে এক সঙ্গে সেবা করতে পার না। হিন্দীতে খ্রীস্টের কথার অনুরূপ একটা সুন্দর দোঁহা আছে: যাঁহা রাম তাঁহা নহীঁ কাম। যাঁহা কাম তাঁহা নহীঁ রাম।। অর্থাৎ যেখানে রাম রয়েছেন সেখানে কাম নেই এবং যেখানে কাম রয়েছে সেখানে রাম থাকতে পারেন না। পরীক্ষা করে দেখা গেছে: যুগপৎ ‘‘ঈশ্বর ও বিত্তদেবতার’’ সেবা নিষ্ফল হয়। যতক্ষণ আমরা কামিনীকাঞ্চনের দাস ততক্ষণ আমরা কিছুতেই ভগবান মন নিবিষ্ট করতে পারি না। সাধনভজনের সঙ্গে সঙ্গে সদসৎ বিচার দরকার। যখন বিচারে পরিপক্কতা আসে অর্থাৎ সৎপক্ষপাতিনী-বুদ্ধি সূক্ষ্মতা লাভ করে তখন বৈরাগ্য দেখা দেয়। তখন খ্রীষ্ট-কথিত বণিকের গল্পে যেমন আছে আমরা আমাদের যথাসর্বস্ব বিক্রী করে স্বর্গরাজ্যরূপ ‘মহামূল্য মণি’ ক্রয় করব।

Advertisement

আমরা বাইবেলে পরিষ্কারভাবে দেখতে পাই, অন্যান্য সত্যদ্রষ্টা মহাপুরুষদের ন্যায় খ্রীস্ট ত্যাগের আদর্শ প্রচার করেছেন। যদি ভগবান চাও তবে বিত্তদেবতাকে ছাড়তে হবে। রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ ও অন্যান্য অবতারদের মতো খ্রীস্টের বাণীও সার্বজনীন। বৈরাগ্যহীন আধ্যাত্মিক জীবন অসম্ভব। 
তাঁর আত্মকথা: ‘কেউ যদি আমার অনুগামী হতে চায় তবে সে প্রথমে নিজেকে ভুলে যাক এবং নিজের দুঃখকষ্টরূপ ক্রুশ কাঁধে নিয়ে আমাকে অনুসরণ করুক। কারণ কেউ যদি নিজের প্রাণ বাঁচাতে চায় তবে সে তা হারাবে; আর কেউ যদি আমার জন্য প্রাণ হারায় তবে সে অনন্তজীবন লাভ করবে। কোন মানুষ যদি নিজের প্রাণ হারিয়ে নিখিল বিশ্ব পায় তবে তাতে কি লাভ? নিজের প্রাণের বিনিময়ে মানুষ কি দিতে  পারে?’
এই ‘নিজেকে ভুলে যাওয়ার’ ও ত্যাগের প্রকৃত অর্থ কি? এর অর্থ এ নয় যে জগৎ এবং কর্তব্যাদি থেকে পলায়ন। এর অর্থ হচ্ছে ‘আমি’ ‘আমার’ রূপ স্বার্থপরতা ত্যাগ। এর মানে হচ্ছে ভগবানকে মন, প্রাণ ও হৃদয় দিয়ে ভালবাসা। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন: ‘ভক্ত কেন ভগবানের জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করে? পতঙ্গ আলো দেখলে আর অন্ধকারে ফেরে না; পিপড়া চিনির স্তূপে মরবে তবুও ফিরবে না। তেমনি ভক্ত কোন কিছু ভ্রূক্ষেপ না করে সচ্চিদানন্দ লাভের জন্যে আনন্দে প্রাণ দেয়।’ সুতরাং আমি তোমাদের বলছি: জীবনের ভাবনা ছেড়ে দাও। খাওয়া-পরার চিন্তা কোরো না। আহার থেকে জীবন এবং বসন থেকে দেহ কি শ্রেষ্ঠ নয়?
আকাশের পাখীদের দিকে তাকিয়ে দেখো—তারা বীজ বোনে না, শস্য কেটে গোলায় মজুত করে না; তবুও স্বর্গীয় পিতা তাদের আহার যোগান। 
‘বেদান্তের আলোকে খ্রিস্টের শৈলোপদেশ’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ