Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

খোঁজ

বাংলায় কোন মাস এখন? দিদি তরুলতার বাড়ির গেটের পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছটি অজস্র ফুল ফুটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই পলাশ গাছ। গর্বে ফেটে পড়ছে।

খোঁজ
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

জয়তী রায়: —বাংলায় কোন মাস এখন?

Advertisement

দিদি তরুলতার বাড়ির গেটের পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছটি অজস্র ফুল ফুটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই পলাশ গাছ। গর্বে ফেটে পড়ছে। চারদিকে উঁচুতলার বাড়ির দাপুটে শাসনের মধ্যে দিদির ছোট্ট একতলা বাড়িটি ফুলে ফলের গাছ শরীরে জড়িয়ে আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। মাধবীলতার  ঝুঁকে থাকা লতা সরালে ‘তরুকুঞ্জ’ লেখা একখানি ফলক চোখে পড়তেই মুখ বাঁকায় সোমলতা— জামাইবাবু স্ত্রৈণ একেবারে। ধুৎ।
গেট খুলতে খুলতে প্রশ্নটা আবার করে, ‘বললে না?’
রজত মিচকে হেসে জবাব দিল, ‘তোমার চোখে দেখেছিলেম আমার সর্বনাশ।’ হে হে।
—তাই তো! চৈত্র। ফুল দেখেছ?
—দেখেছি বইকী। ফাল্গুন মাস। এখন আর মনে থাকে না।
সোমলতা কড়া চোখে তাকায়। উটকো আবেগ। রজতের বংশ সূত্রে প্রাপ্ত বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস বৈষ্ণব পদাবলি নিয়ে নাচানাচি অনেক মেহনত করে ছাঁটাই করতে হয়েছে। না হলে সন্তানের মেডেল বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হতো না! তুলতুলি একমাত্র সন্তান। বংশের ধারা পেয়ে হয়ে উঠছিল স্বভাব আদুরে। রজতের বাবা কীর্তন গাইতেন! সে কি দৃশ্য! বড় চাকুরে অফিস থেকে ফিরে মৃদঙ্গ নিয়ে কীর্তন গাইছেন! শাশুড়ি ঢুলুঢুলু চোখে শুনছেন। বাড়িতে ছড়িয়ে আছে বই আর বই। দু’জনে স্বর্গে চলে যাওয়ার মাস ছয়েকের মধ্যে বাড়ি পরিষ্কার হয়ে গেল। আর তুলতুলির দিকে প্রথম থেকেই পাখির চোখ সোমলতার। সোহাগ আর আদরের জায়গায় বিছিয়ে দিল নিয়মের কঠিন পথ। সেই পথের শেষে আছে আলিবাবার গুহা। কত সুখ! কত সম্মান! কত সম্পদ! শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, বসন্ত... সব ঋতু একাকার হয়ে মিশে গিয়েছে পরীক্ষার আকাশে। রজত মিনমিন আপত্তি করত, মেয়েটার ক্ষতি না হয়ে যায়। চারদিকে এত সুইসাইড করছে!
বই পত্তর থেকে ধুলো ঝেড়ে ফেলতে ফেলতে সোমলতা বলত, তুলি ভয় পায় না। যা করবে খুঁটি পুঁতে শক্ত করে করবে।
বোন আর ভগ্নীপতিকে দেখে দিদি তরুলতা হইহই করে উঠল, আয় রে। বস রে। কী খাবি বলে? অর্ণবের দোকান থেকে আনাই?
সোমলতা বিরক্ত মুখে বলল, ‘কিচ্ছু খাব না।’
হাসি হাসি মুখটা একটু মলিন লাগল কি? লাগলে লাগুক। সারাজীবন আড্ডা দিয়ে, সিনেমা দেখে, হালকা চালে কাটিয়ে দিল। বর-বউ মিলে সন্ধেবেলা ফুচকা খেতে যায়, শুনেছ কখনও! একমাত্র ছেলে অর্ণব। দোকান করে দিতে হল শেষপর্যন্ত। বাড়ির পাশেই। টাকা খরচ করে সাজিয়েছে মন্দ নয়।‌ গিটার টিটার বাজে। আজকাল যেমন হয়। কাফে। সে যাই হোক, ঘুরে ফিরে সেই তো দোকানদার। মাতৃদোষে রাবণ রাক্ষস! জামাইবাবু অর্থবান হয়ে লাভ হল কি? কর্ম যেমন, ভাগ্য তেমন।
চা খেতে খেতে তরুলতা আনন্দ মাখা মুখে বলে উঠল, ‘আমাদের তুলি বিদেশ যাচ্ছে! সোম, মানতেই হবে মেয়ে তোর রত্ন।’
ঘর থেকে বেরিয়ে আসে অর্ণব, ‘যা একখানা রেজাল্ট করেছে বারো ক্লাসে। বিদেশ যাওয়া আটকায় কে?’
‘সেই সঙ্গে তোমার মাসির অবদানের কথা বল। নাহলে কপালে দুঃখ আছে,’
হাসতে হাসতে বলে রজত।
‘সে আর বলতে! রাত জেগে, দিনে পুড়ে, নিজের অত সুন্দর চাকরি ছেড়ে... সোম অনেক করেছে।’ বলতে বলতে ছোটবোনের মাথায় হাত রাখে দিদি তরুলতা, ‘আজ যেমন তুলির জন্য তোমাদের মাথা উঁচু, তেমনই সোমলতা আমাদের গর্ব ছিল। বাবা-মা আজ বেঁচে নেই। যতদিন ছিলেন, ছোট মেয়ের নামে দু’গ্রাস ভাত বেশি খেতেন।’
—যাহ দিদি। এসেছি কাজের কথা বলতে এখন এসব ছাড়।
বুকের মধ্যে জেগে ওঠা চিনচিন ব্যথাকে আমল না দিয়ে সোমলতা বলে, ‘আগামী রবিবার সবাই একসঙ্গে হব। তুলতুলির জন্য একটা পার্টি রেখেছি। সকলের আশীর্বাদ চাই।’
নরম মুখে তরুলতা বলে, ‘সোম, তোর মনে আছে দাদুর কথা? শেষদিন পর্যন্ত দ্যাশের বাড়ি দ্যাশের বাড়ি করে গেল। সুখেই তো ছিলেন তাও ভুলতে পারেনি ওপার বাংলার ঘর বাড়ি।’
‘দিদি!’ কড়া গলায় বলে সোমলতা, ‘ইলিশ থেকে শিঙাড়া কিচ্ছু অভাব নেই বিদেশে। দুর্গাপুজো হয়।’
‘মনে কিছু করিস না। আমার ছেলে তেমন কিছু করতে পারেনি। তাই, বলার অধিকার নেই হয়তো। ছাড়তেই হবে দেশ? তুলতুলির ছোট্ট ঘর, পুতুল, আঁকার স্কুল, মায়ের রান্না—।’ চোখে আঁচল চাপা দেয় তরুলতা, ‘আমাদের পোষা বেড়ালটাও পাড়া ঘুরে গন্ধ শুঁকে ঘরে ফিরে আসে। তুলতুলির কষ্ট হলে কোথায় খুঁজে ফিরবে মায়ের গন্ধ?’
—মাসি। লোক কত হবে তোমার?
অর্ণব তাড়াতাড়ি সামলে দেয় পরিস্থিতি ।
—বেশি না। জনা পঞ্চাশ। কেন?
—ওইদিন কাবাব আমার তরফ থেকে। কোনও কথা শুনব না।
অমলিন উজ্জ্বল মুখে বলে ওঠে সরল ছেলেটা।
....
রজতের পৈতৃক সম্পত্তি বাবদ কিছু জমিজমা বিক্রিটিক্রি করে। বিদেশে পড়ানোর খরচ সামাল দেওয়া গেল। সন্তান বলতে ওই একটি মাত্র। নিজেদের তিনতলা বাড়ি। সেখানে ভাড়া আছে। নিয়মিত আয় হয়। রজত নিজেও বড় অফিসার। টাকা পয়সার অসুবিধা নেই। রজত বলেছিল, ‘এত ছোট মেয়ে। তারপর তেমন চালু টালু তো না। গ্র্যাজুয়েশন কলকাতায় শেষ করে তারপরে না হয়... ভেবে দেখ। স্কলারশিপ আর ভিসার সুবিধাও হবে তাহলে।’
—তোমার যেমন কথা! দেখছ না? একগাদা ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এই দেশে থেকে করবে কী? এত পলিটিক্স। এত গণ্ডগোল!
উত্তরে রজত বলেছিল, ‘বিদেশের সব কিছু ভালো নাকি! দেশেই থাকত। জড়িয়ে মড়িয়ে থাকা যেত সবাই মিলে।’
বলেছিল বটে। কিন্তু সে বলায় জোর ছিল কই? আমেরিকার সম্মোহনী শক্তির জাল ধীরে ধীরে গ্রাস করেছিল। সন্তান বিদেশে পড়ছে, উচ্চারণ মাত্রই বদলে যায় সামনের শ্রোতার মুখ। চোখে ফুটে ওঠে সম্ভ্রম। বিদেশে থাকে? দারুণ ব্যাপার। কত টাকা মাইনের চাকরি করে? আরও একটা ফ্ল্যাট কিনবেন নাকি রজতবাবু?
বছর কয়েক কেটেও গেল। মাঝে এক-দু’বার ঘুরে গেল মেয়ে।
গর্বের শেষ নেই। অহংকারের শেষ নেই। খলবল করে ছবি দেখায়। ফুলের ছবি। নদীর ছবি। গাছের ছবি। সাজিয়ে রাখা শহর। গুছিয়ে রাখা বাড়ি। ফোন করে বন্ধুদের বলে, জীবনে খুন্তি ধরেনি। সেই মেয়ে রান্না 
করছে গো!
ফোনের অপরপ্রান্ত শুকনো গলায় বলে, বিদেশি জুটিয়ে ফেলেনি তো আবার!
আঁতকে ওঠে সোমলতা। কলকাতায় যা সব নমুনা। তার থেকে অনেক ভালো আমার তুলতুলি।
রাগে গরগর করতে করতে ফোন নামিয়ে রাখে। কেউ কারও ভালো দেখতে পারে না! মেজাজ খারাপ লাগে খুব। থম মেরে বসে থাকতে থাকতে, শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোতের নেমে যাওয়া অনুভব করে সোমলতা। জুটিয়ে ফেলেনি তো? বিদেশি?
....
‘তুমি এমন আপসেট হলে চলবে সোম? প্রেশার ট্রেসার বাড়িয়ে, যা ইচ্ছে তাই করছ?’ উত্তেজিত গলায় বলে রজত।
—আমি আর পারছি না গো। পারছি না।
—চুপ কর। মেয়ে আজ ছয় বছর বিদেশে। পাশ করেছে। দু’বছর হল চাকরি করছে। হাড় মাস একাকার করেও ভিসার গ্যারান্টি পাচ্ছে না। তাই, যা ভালো বুঝেছে করেছে।
—রজত! এমন বলতে পারলে তুমি? তুমি মানতে পারছ?
ঢোঁক গেলে রজত। মধ্যবিত্ত বৈষ্ণব পরিবারের ছেলে। রক্ত এখনও প্রাচীন ভাবনা বহন করে। মেনে নিতে সে পারছে না! কিন্তু, পরদেশে ভিসা ব্যাপারে হঠাৎ এত কড়াকড়ি হয়ে যাবে, বুঝবে কেমন করে! দিশাহীন মাঝির গলায় সে বলে, ‘বিদেশি বিয়ে করছে তো বেশ করেছে। লোকজনের কথায় পাত্তা না দিলেও চলবে।’
—বিয়ে? বিয়ে কোথায় গো? একসঙ্গে আছে। যদি পালিয়ে যায় মেয়েটাকে ফেলে?
রজত বাইরে তাকায়। রোদ্দুরে পুড়ে যাচ্ছে আকাশ। অনেক উঁচুতে একলা চিল। যত উঁচু তত একলা। সোমলতার কাঁধে হাত রেখে সে বলে, ‘গুছিয়ে নাও। টিকিট পাঠিয়েছে। যেতে হবে।’
....
ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে হাজারটা কড়া প্রশ্নের চোরের মতো ভয়ে ভয়ে উত্তর দিয়ে অবশেষে ওরিগন রাজ্যের পোর্টল্যান্ড এলাকার ছোট্ট শহরে এসে পৌঁছে গেল রজত আর সোমলতা। ভাড়া বাড়ি। দু’বছর থেকে তুলতুলি আর ওর মার্কিন পুরুষসঙ্গী মাইকেল একসঙ্গে আছে। ছোট্ট বাড়ি। দুটো বেডরুম। বসার ঘর, রান্নার জায়গা একসঙ্গে। একটাই টয়লেট। তুলি পই পই করে সাবধান করে,
‘চারদিকে জলটল ফেলে রেখ না।’
—শোনো মা। মাইকেল প্রাইভেসি পছন্দ করে। বাবার কথায় কথায় হাঁচি। রাতে জোরে নাকডাকা ওর পছন্দ না।
—এখনও বিয়ে হয়নি! তাতেই এত দেমাক! নাক ডাকা সহ্য হয় না!
চশমার উপর থেকে চোখ তুলে তাকায় তুলতুলি। চেহারা চিরকাল ছোটখাট ছিল। এখন যেন আরও রোগা? সমস্ত শরীরে ক্লান্তি। সোমলতা কেমন থমকে যায়। মাইকেল লম্বা চওড়া মার্কিন পুরুষ। তার সঙ্গে পাখির মতো তুলি...!
সোমলতা সামলে নিয়ে বলে, ‘তুই কি কিছু কম নাকি?’
—আমেরিকান হবার জন্য লড়াই করছি। মাইকেলকে বিয়ে করলে সেটা সহজ হবে।
—তুই বরং ফিরে চল। ওখানে কিছু একটা ঠিক পাবি। না পেলেও সমস্যা নেই।
—আর হয় না মা। ভিসা ছাড়া চোখের সামনে আর কিচ্ছু নেই। কিচ্ছু না। মার্কিন নাগরিক বিয়ে করলে ঝামেলা নেই। মাইকেল আমার জ্যাকপট।
চোয়াল শক্ত করে বলে তুলি, ‘খুঁটি পুঁতে রাখতেই হবে। তোমারই শিক্ষা। ভুলে গেলে?’
জানলার সামনে দাঁড়ায় তুলতুলি। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামছে। আবছা আলোয় চকচক জনহীন রাস্তা মনে হচ্ছে অজগর সাপ। একদৃষ্টে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আনমনে বলে ওঠে, ‘ভূমিহীন হয়ে গেলে আবার ফিরে যাওয়া মুশকিল। যাক। অত ভেব না। সব ঠিক হয়ে যাবে।’
....
সকালে বাড়ি খালি থাকলেও কাজের বেশ চাপ থাকে। রান্না করা। বাসন ধুয়ে গুছিয়ে রাখা। ঘর মোছা। কলকাতায় অভ্যাস নেই। সোমলতা হাঁফিয়ে উঠে বলে, ‘তুমি লক্ষ করেছ? ওই বিদেশি আমাদের মোটেও সহ্য করতে পারে না।’
রজত হাসে। দুঃখের হাসি।
—বিদেশি আমরা। এটা মাইকেলের দেশ। আমাদের নয়। ওদের মতো করে চলতে হবে। গপগপ মুসুরডাল, ভাত খেলে ভালো নাই লাগতে পারে।
ক্ষোভের সঙ্গে বলল সোমলতা, ‘ইস্। জামাই বরণের খুব সাধ ছিল গো। সে আর হল না।’
রজত হঠাৎ উত্তেজিত, ‘আমি আমি আর আমি। নিজের কথা ছাড়া কারও কথা ভাব না। অর্ণবের দোকান নিয়ে কত ঠাট্টা করেছ। ও কিন্তু নিজের মাটিতে সম্মানের সঙ্গে আছে।’
—নিজের মাটি থেকেও উচ্ছেদ হতে হয়।
তালুতে ঘুসি মারে রজত। অসহায় পিতা। খিচখিচে গলায় বলে, ‘ইচ্ছে করে ভিটে জমি ফেলে দেয় না কেউ। এত গুণী মেয়ে আমার। তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মাইকেলের উপর। যা কড়াকড়ি চলছে, বহিরাগতদের থাকা মুশকিল।
বহিরাগত? উদ্বাস্তু? ভূমিহীন? এত যোগ্যতা, এত গুণ— ভিসা না পেলে সব বৃথা?’
সূর্য অস্ত যাচ্ছে। সূর্যাস্তের সাতরং ছড়িয়ে পড়ছে সমস্ত চরাচর জুড়ে।  সোমলতার দমবন্ধ হয়ে আসছে। চাপ বাড়ছে বুকে। অনেক কষ্টে রজতকে বলল, ‘মেয়ে ফিরবে। ওকে একটু পরোটা করে দিই। মেয়েটা বড্ড ভালোবাসে।’
—তোমার পরোটার ওর আর প্রয়োজন নেই। তার চেয়ে আমরা দেশে ফিরে যাই চল। লড়াই এখন ওর নিজের। প্রার্থনা করি, যেন জিতে যায় মেয়েটা।
দেশে ফিরে কলকাতার বাস, অটো, গাড়ির জঙ্গল, কংক্রিটের পাহাড়ে আরামের শ্বাস নিয়ে রজত প্রস্তাব দেয়, ‘অর্ণবের কাফেতে গিয়ে চা খাই চল।’
সম্মতি দিল সোমলতা। দেশের মাটিতে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়ার ছায়ার নীচে কাফে আজ আশ্রয়ের আশ্বাস। চায়ের কাপে শব্দ করে চুমুক দিয়ে রজত বলে ওঠে, ‘ওহে অর্ণব, বাংলায় এখন কোন মাস?’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ