Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সমুদ্রে জলস্তর বৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী, দ্রুত নোনতা হবে পানীয় জল? রিপোর্ট ঘিরে শঙ্কা

ক্রমশ বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তর। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই হারে জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকলে কলকাতা শহরে পানীয় জলও নোনতা হয়ে যাবে। আচমকা কেন এই আশঙ্কা?

সমুদ্রে জলস্তর বৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী, দ্রুত নোনতা হবে পানীয় জল? রিপোর্ট ঘিরে শঙ্কা
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রমশ বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তর। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই হারে জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকলে কলকাতা শহরে পানীয় জলও নোনতা হয়ে যাবে। আচমকা কেন এই আশঙ্কা? ওয়ার্ল্ড মেটিওরলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের (ডব্লুএমও) একটি রিপোর্ট বলছে, সমুদ্রের জলস্তর (উপকূল থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে) সাধারণত বছরে ৩.৭ থেকে ৩.৮ মিলিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই বৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৪ মিলিমিটারে। এই হারে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির বিষয়টি উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য গভীর উদ্বেগের। বঙ্গোপসাগরের উত্তর ভাগ অর্থাত্ ভারতের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকায় এর প্রভাব দেশের মধ্যে সর্বাধিক। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত উপকূলের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে যে হারে জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, গোটা পৃথিবীতে তা দ্বিতীয়। প্রথমে রয়েছে দক্ষিণ চীন সাগর। তালিকায় রয়েছে আরব সাগরও। প্রসঙ্গত, সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি সব জায়গায় সমানভাবে হয় না। ২০২৪ সালে ‘গ্লোবাল মিন সি লেভেল’ বেড়েছে ৩.৪ মিলিমিটার। সেই জায়গায় ভারতের পশ্চিম উপকূলবর্তী এলাকায় ৩.৯ মিলিমিটার এবং পূর্ব উপকূলে ৪ মিলিমিটার হারে বেড়েছে জলস্তর। 

Advertisement

এই পূর্ব উপকূল অংশেই রয়েছে সুন্দরবন। সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায়। তাই এখনই কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভূগর্ভস্থ জলে মিশে যাবে সমুদ্রের নোনা জল। ফলে সেই জল আর পান বা রান্নার কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান পূণর্বসু চৌধুরী বলছিলেন, ‘লবণাক্ত জলের পরিমাণ বাড়লে ম্যানগ্রোভর চরিত্র বদলাতে থাকবে। এই জল মাটির নীচের জলের সঙ্গে মিশলে তাকেও লবণাক্ত করে দেবে। ওই এলাকায় প্রাকৃতির দুর্যোগ সাংঘাতিকভাবে বেড়ে যাবে। উপকূল অঞ্চলের মানুষের কাছে যা খুবই ভয়ের। ইতিমধ্যেই সুন্দরবন-ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বছর বছর বেড়ে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে বেশ কিছু দ্বীপ চিরতরে হারিয়ে যাবে। বেশ কয়েকটি দ্বীপ হারিয়েও গিয়েছে।’
এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কি একমাত্র জলবায়ু পরিবর্তন? অধ্যাপক চৌধুরীর কথায়, ‘অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তন। বরফ গলে যাওয়া এর অন্যতম কারণ। সেই কারণেই সমুদ্রের জলস্তর এতটা বাড়ছে।’ তাহলে বাঁচার উপায় কী? ম্যানগ্রোভ লাগাতে হবে? গাছ লাগাতে হবে? অধ্যাপক চৌধুরীর পরামর্শ, ‘শুধু ম্যানগ্রোভ, গাছ লাগালে কিছু হবে না। ব্যক্তিগত স্তরে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে। নাহলে বাঁচার উপায় নেই।’ সুন্দরবনের স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে ইতিমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সাগরের বাসিন্দা তথা মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত পরমানন্দ মণ্ডল বলেন, ‘এমনিতেই প্রতি বছর দুর্যোগে ক্ষতি হচ্ছে। তার উপর যদি জলস্তর বৃদ্ধি পায়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো দ্বীপটাই ডুবে যাবে।’ নামখানা ব্লকের মৌসুনি দ্বীপের বাসিন্দা রবীন মণ্ডল বলেন, ‘প্রকৃতির রোষে প্রতি বছর এই দ্বীপে ভাঙন হচ্ছে। জলস্তর বাড়তে থাকলে আরও বড় ক্ষতি হতে পারে।’
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। ‘আপার অ্যান্ড লোয়ার ডেল্টা সুন্দরবন’ প্রকল্প নিয়েছে নবান্ন। মৃতপ্রায় খালগুলি বাঁচিয়ে মিষ্টি জলের স্বাভাবিক প্রবাহ চালু করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। প্রথম পর্যায়ে কলকাতা সংলগ্ন খালগুলির সংস্কার হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সুন্দরবনের খাল ও বিদ্যাধরী, ইছামতী ও মাতলা নদীর সংস্কার করা হবে। এই প্রকল্পের ৭০ শতাংশ টাকা দেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক। বাকি অংশ খরচ করবে রাজ্য। 

সম্পর্কিত সংবাদ