নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশের বান্দায় তাপমাত্রা ৪৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিল্লিতে ৪৪। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশেই বইছে তাপপ্রবাহ। আগামীতে আরও বাড়বে বলেই সতর্কবার্তা আবহাওয়া দপ্তরের। এই প্রবল তাপপ্রবাহে চাষবাসে প্রভাব পড়বে বলেই কৃষি বিজ্ঞানীদের মত। প্রবল গরমে মাঠে কাজ করার শ্রমিক পাওয়া সমস্যা হতে পারে। একইসঙ্গে ধান উৎপাদনও মার খেতে পারে বলেই আশঙ্কা করছে ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচার রিসার্চ। তাদের রিপোর্ট, বিশেষ করে গাঙ্গেয় অববাহিকার ঘনবসতিপূর্ণ কৃষি অঞ্চলে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ‘এল নিনো’র প্রভাব এবং সম্ভাব্য কম বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তাই কীভাবে কৃষি উৎপাদনে মার এড়ানো যায়, তার জন্য নানা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ভোরবেলা ফোটে এমন জাতের ধানের বীজ ব্যবহার, রোপনের সময় পরিবর্তন এবং তাপ সহনশীল বীজ বপন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সেচ ব্যবস্থাও তাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ভারতে ধানচাষ এখনও শ্রমনির্ভর। লক্ষ লক্ষ মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এই তাপমাত্রা বিপজ্জনক সীমার কাছাকাছি বা তারও বেশি পৌঁছাতে পারে। তাই তার মোকাবিলায় রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এগতে চাইছে কেন্দ্র। কেন না দেশের নাগরিকদের সার্বিক ক্যালোরির প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান দেয় ভাত। গ্রীষ্মকালীন চাষে তাই বৃষ্টির অভাব এবং তারই সঙ্গে তাপপ্রবাহ চলতে থাকলে যে ভারতের খাদ্যভাণ্ডারে টান পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচার রিসার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ-এপ্রিল ছিল ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ সময়। ওই সময়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮-১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বহু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতও ৬০-৯৯ শতাংশ কম হয়েছিল। যার জেরে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং মহারাষ্ট্র সহ অনেক রাজ্যে ফসল, ফল, সবজি এবং পশুপালনেও মারাত্মক প্রভাব পড়ে। গমের উৎপাদন ৯-৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন প্রযুক্তি, উপযুক্ত ফসল নির্বাচন, রোপণের সময় পরিবর্তন এবং উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।