Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘সায়েন্টিফিক রিগিং...ফেজ টু’! বিজেপির ষড়যন্ত্র গুঁড়িয়ে দেবে মমতার বাংলা

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণের নামে ক্ষমতা দখলের এজেন্ডা চরিতার্থ করা বিজেপির বহুদিনের টার্গেট। আর তা করতে গিয়ে লাজলজ্জার যাবতীয় মানদণ্ড জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলার মসনদে বসতে আদাজল খেয়ে নেমেছে মোদিবাহিনী।

‘সায়েন্টিফিক রিগিং...ফেজ টু’! বিজেপির ষড়যন্ত্র গুঁড়িয়ে দেবে মমতার বাংলা
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

জীবানন্দ বসু; শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণের নামে ক্ষমতা দখলের এজেন্ডা চরিতার্থ করা বিজেপির বহুদিনের টার্গেট। আর তা করতে গিয়ে লাজলজ্জার যাবতীয় মানদণ্ড জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলার মসনদে বসতে আদাজল খেয়ে নেমেছে মোদিবাহিনী। সঙ্গে অন্যতম ‘দোসর’ হিসাবে পেয়েছে নির্বাচন কমিশন নামক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিকে। রাজনৈতিক লড়াইয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে এসআইআরের কৌশল। আর সেই ছকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে বাস্তবে গেরুয়া শিবির এবার বাংলায় ‘সায়েন্টিফিক রিগিং... ফেজ টু’ আমদানি করল। বাম আমলের শেষ দু’দফার ক্ষেত্রে ভোটার তালিকার মারপ্যাঁচে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার হাতেখড়ি রাজ্যের মানুষ প্রত্যক্ষ করছিল। তখন থেকেই বাংলায় সায়েন্টিফিক রিগিং শব্দটা চালু। এবার এসআইআর—প্রযুক্তি ও কমিশনের যৌথ দৌলতে বর্ধিত আকারের রিগিং। ধন্য মহামতি নরেন্দ্র মোদি। ধন্য তাঁর সুযোগ্য সহকর্মী ‘মোটাভাই’। 

Advertisement

প্রথম দফার ভোট হয়ে গিয়েছে। মানুষ যেভাবে এবার গরমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছে, তাকে এসআইআর যন্ত্রণার বিরুদ্ধে নিঃশব্দ বিপ্লব। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-যুবসাথীর মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ইতিবাচক প্রতিফলনও যোগ হয়েছে। আর সবার উপর এসআইআর সহ বাংলার অস্মিতা রক্ষার ইস্যুতে গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে একা কুম্ভ হয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত দেড় মাস ধরে যে অক্লান্ত পরিশ্রম তিনি করে চলেছেন, তার প্রতিদানই হয়তো বুথমুখী জনতার এই নিঃশব্দ আক্রোশ। প্রকৃতি বিমুখ না হলে আশা করা যায়, ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও এই ছবিরই পুনরাবৃত্তি বাংলা দেখবে। 
প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিজেপিকে রুখে দেওয়ার জন্য বঙ্গবাসীর একটা বড়ো অংশ কেন মরিয়া? উত্তরের জন্য খুব বেশি খোঁজখবর করতে হবে না। পড়শি বাঙালি রাজ্য ত্রিপুরার দিকে তাকান। ডবল ইঞ্জিন সরকারের ভোকাল টনিকের ফাঁদে পা দিয়ে রাজ্যটার যে দুর্দশা হয়েছে, তা সেখানকার মানুষের অভিজ্ঞতাই বলে দেবে। ২৫ বছরের বাম শাসনের বদল ঘটিয়ে বিজেপি সেখানে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু তারপর? সৌজন্য দূরঅস্ত, গত কয়েক বছরে সে রাজ্যে রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটাই বদলে গিয়েছে। শাসক দলের গুন্ডাবাহিনীর দৌরাত্ম্য, অত্যাচার আজ লাগামছাড়া সেখানে। খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ব্যাভিচারিতা ত্রিপুরায় নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। ব্যক্তিগত থেকে প্রাতিষ্ঠানিক—দুর্নীতি শব্দটা অহরহ এই পড়শি রাজ্যের আকাশে-বাতাসে ঘোরাফেরা করে। তা সে নির্মীয়মাণ মনু ব্রিজ ভেঙে পড়াই হোক বা অন্য কিছু। পার্টি অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রয়াত নেতাদের মূর্তি ভেঙে দেওয়া সহ নানাভাবে বিরোধী দলগুলির টুঁটি চেপে ধরা, কোনো পর্যায়ের নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধভাবে না হতে দিয়ে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার হরণ—এসবই এখন বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার প্রতীক।
তাই বাংলায় এই ভয়ংকর শক্তির আগমনকে সিংহভাগ রাজ্যবাসী নিশ্চিতভাবে মনেপ্রাণে প্রত্যাহার করবে। ভয়-দুর্নীতির থেকে বাংলাকে মুক্ত করার নামে ত্রিপুরার বীভৎস পরিবেশ তাদের কাছে কখনোই কাম্য হতে পারে না। তাই গেরুয়া বাহিনীর ‘সায়েন্টিফিক রিগিং... ফেজ টু’ পরিকল্পনার সাড়ে সর্বনাশের জন্য বাংলা তৈরি। ছিল, আছে এবং থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ