Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হরিপালে স্কুলশিক্ষককে অপহরণ! ঝাঁসিতে ট্রেন থেকে উদ্ধার, স্বামীর ফোন থেকেই স্ত্রীকে বার্তা পাঠিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি, রহস্য

হরিপাল থানার পাড়জালা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক দেবকুমার দাস। গত ৪ জুলাই থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

হরিপালে স্কুলশিক্ষককে অপহরণ! ঝাঁসিতে ট্রেন থেকে উদ্ধার, স্বামীর ফোন থেকেই স্ত্রীকে বার্তা পাঠিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি, রহস্য
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: হরিপাল থানার পাড়জালা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক দেবকুমার দাস। গত ৪ জুলাই থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ৫ জুলাই দেবকুমারবাবুর ফোন থেকে একটি এসএমএস আসে তাঁর স্ত্রী অর্পিতা দাসের মোবাইলে। সেই মেসেজে জানানো হয়, তাঁর স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিলে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পথে যেতে হয়নি পরিবারকে। শনিবার রাতেই উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে মথুরা-চম্বল এক্সপ্রেস থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হুগলি জেলা পুলিস। সোমবার আদালতে হাজির করানোর পর দেবকুমারবাবুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সত্যিই তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য, তা জানতে তদন্ত করছে পুলিস। এই ঘটনায় স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিপাল থানা এলাকায়। 

Advertisement

সোমবার হরিপাল থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন সি আই (তারকেশ্বর) প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘গত ৪ জুলাই আমাদের থানার বন্দিপুর মিত্রপাড়ার বাসিন্দা অর্পিতা দাস তাঁর স্বামী দেবকুমার দাস নিখোঁজ বলে একটি ডায়েরি করেন। সেখানে তিনি জানান, তাঁর স্বামী তারকেশ্বর যাওয়ার জন্য বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ। তারপর আর কোনও খোঁজ নেই। ৫ জুলাই অর্পিতাদেবী পুনরায় থানায় আসেন। এবার তিনি জানান, তাঁর ফোনে স্বামীর মোবাইল থেকে একটি এসএমএস এসেছে। অপরহরণের কথা বলে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে সেখানে। টাকা না দিলে তাঁর স্বামীকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আরও লেখা হয়েছে, একথা পুলিসকে জানালে গুম করে দেওয়া হবে তাঁর স্বামীকে।’ সি আই জানান, তদন্তে নেমে পুলিস দেবকুমারবাবুর মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করতে শুরু করে। প্রথমে মোবাইলটি আসানসোলে রয়েছে বলে দেখায়। তদন্তকারীরা দেখেন, মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত। এর থেকে বোঝা যায়, কোনও দ্রুতগামী গাড়ি বা ট্রেনের মধ্যে রয়েছে মোবাইলটি। সেই মতো সময় ও স্টেশন মিলিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি ট্রেনের তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকারই একটি ট্রেন এই মথুরা-চম্বল এক্সপ্রেস। হুগলির ধনেখালি থানার একটি বিশেষ দল অন্য এক তদন্তের জন্য সেই ট্রেনে গোয়ালিয়র যাচ্ছিল। নিখোঁজ শিক্ষকের ছবি ও তদন্তের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয় ট্রেনে থাকা ধনেখালি থানার ওই দলকে। সেই মতো ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে ঝাঁসির কাছে দেবকুমারবাবুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। 
নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা গেলেও তাঁকে সত্যিই অপহরণ করা হয়েছিল কি না, এর পিছনে কী কারণ থাকতে পারে—এসব প্রশ্নে ধোঁয়াশা কাটেনি। তা জানতেই তদন্ত চালাচ্ছে পুলিস। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৩৯-এর দেবকুমারবাবু স্ত্রী এবং বছর সাতেকের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি একটি জমি কিনেছেন। এই ঘটনায় সেই সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও গোলমাল ইত্যাদির ভূমিকা আছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিস। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ