


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সারদা-রোজভ্যালির বাঘা এজেন্টরা আবার চিটফান্ড ব্যবসায় নেমেছেন। অনলাইনে যে-সমস্ত কোম্পানি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ রিটার্নের টোপ দিয়ে পঞ্জি স্কিম চালাচ্ছে, তাদের হয়েই কাজ করছেন তাঁরা। এই সমস্ত কোম্পানির হয়ে তারা জোরদার প্রচার করছেন গ্রামেগঞ্জে। এর বিনিময়ে ভালো টাকার কমিশন পাচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় লুকিয়ে চুরিয়ে চলা ভুঁইফোড় কোম্পানির হয়েও কাজ করছেন লোকগুলি। এই তথ্য হাতে এসেছে ডিরেক্টরেট অফ ইকোনোমিক অফেন্সেসের (ডিইও) অফিসারদের কাছে। সারদা রোজভ্যালির হয়ে কাজ করা তিরিশ জনের বেশি এজেন্টকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের নতুন এই মোডাস অপারেন্ডি সামনে এসেছে।
সারদা-রোজভ্যালিসহ বিভিন্ন বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা বাজার থেকে টাকা তোলার জন্য একাধিক এজেন্ট নিয়োগ করেছিল। একেকজন এজেন্ট বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করেন আমানতকারীদের কাছ থেকে। বিপুল পরিমাণ কমিশন পান সকলেই। এই টাকায় বড়ো এজেন্টরা বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বানিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই দুই চিটফান্ড সংস্থার হয়ে আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকার একটা বড়ো অংশ কোম্পানিতে জমা না করে এজেন্টরা নিজেরাই আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। সারদা-রোজভ্যালি দুই কোম্পানিতে লালবাতি জ্বলতেই উধাও হয়ে যান এই সমস্ত এজেন্ট। দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া ছিলেন তাঁদের বেশিরভাগই। চিটফান্ড কাণ্ডের স্মৃতি ফিকে হতেই ধীরে ধীরে আবার ফিরতে শুরু করেন ওই এজেন্টরা।
সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা এখন কী কাজকর্ম করছেন? নতুন কোনো চিটফান্ড সংস্থার হয়ে কি কাজ করছেন তাঁরা? এসবের অনুসন্ধানে নামে ডিইও। তাদের নজরে আসে, একাধিক ভুঁইফোড় কোম্পানি কৌশল বদলে অনলাইনে চেইন মার্কেটিংয়ের নাম করে বাজার থেকে দেদার টাকা তুলছে। সারদা-রোজভ্যালির মতোই মান্থলি ইনভেস্টমেন্ট স্কিম, রেকারিংসহ বিভিন্ন স্কিম অফার করেছে তারা। তাদের কোম্পানির হয়ে প্রচারের জন্য অসংখ্য এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। এজেন্টদের তথ্য ঘাঁটতে গিয়ে ডিইও অফিসাররা জানতে পারেন, তাঁদের বেশিরভাগই একসময় সারদা-রোজভ্যালির বড়ো বড়ো এজেন্ট ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কী কী প্রোডাক্ট রয়েছে, গ্রামে ঘুরে ঘুরে তারই প্রচার চালাচ্ছেন তাঁরা। তুলে ধরা হচ্ছে আকর্ষণীয় লাভের হিসেবনিকেশও।
সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার পরই এই কোম্পানির বিভিন্ন স্কিম সামনে আনছেন ঝানু এজেন্টরা। দাবি করা হচ্ছে, টাকা বিনিয়োগ করলে অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ সুদ মিলবে। অনেকেই তাঁদের টোপ গিলে টাকা বিনিয়োগও করে বসছেন এই এজেন্টদের মাধ্যমেই। কোম্পানির নিজস্ব একটি অ্যাপের মাধ্যমে এজেন্টরা টাকা পাঠাচ্ছেন। প্রথমে টাকা মিললেও কিছুদিন পরই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রিটার্ন। ইতিমধ্যেই অনলাইনে চিটফান্ড চালাচ্ছে এমন কিছু কোম্পানিকে শনাক্ত করেছেন অফিসাররা। পাশাপাশি ৩১ জন এজেন্টকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারও করা হয়। তাঁদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিভিন্ন কোম্পানি অনলাইনের বাইরেও অন্য পদ্ধতিতে গোপনে তাঁদের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলছে। ওই কোম্পানিগুলি মূলত ভিন রাজ্যের। কতজন আমানতকারীর কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে? এজেন্টদের নথি ঘেঁটে তা জানার চেষ্টা চলছে।