নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সন্দেশখালিতে পুলিশকে মারধরের ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা। ন্যাজাট এলাকা থেকে মঙ্গলবার এই তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারির পর সন্দেশখালিতে পুলিশকে আক্রমণের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৩। এই অবস্থায় তৃণমূলের দাবি, বাংলায় কেউ দোষ করলে ছাড় পায় না।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় অভিযুক্ত মুসা মোল্লাকে ধরতে গত শুক্রবার রাতে সন্দেশখালিতে অভিযান চালিয়েছিল ন্যাজাট থানার পুলিশ। সেখানেই তাদের আক্রান্ত হতে হয়। তদন্তে নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। ধৃত মুসা বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা শাহজাহানের ‘ডান হাত’ বলেই এলাকায় পরিচিত। অভিযোগ, শুক্রবার রাতে পুলিশি অভিযানের খবর জানতে পেরে সে তার শাগরেদদের আগে থেকেই প্রস্তুত করে রেখেছিল। পুলিশ আসতেই মুসার দলবল তাদের ঘিরে ধরে। শুধু তাই নয়, মুসাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় তারা। সেই ঘটনায় আগেই দু’দফায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল সন্দেশখালি থানা। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মুসার দাদা ও তার দুই ভাইপোকে। তাদের হেপাজতে নেওয়ার পর মঙ্গলবার কাকভোরে ন্যাজাট এলাকা থেকেই মুসাকে পাকড়াও করে পুলিশ।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটা সময় আইনুল গাজির জমিতে ধান চাষ করত শাহজাহানের শাগরেদ মুসা মোল্লা। পরে কার্যত গায়ের জোরে সেই চার বিঘা চাষের জমিতে ভেড়ি তৈরি করে নেয় সে। এনিয়ে মামলা হয়েছিল। বসিরহাট আদালত ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশও মানছিল না মুসা। বাড়িতে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয় তাকে। তারপর গত শুক্রবার রাতে পুলিশ মুসাকে ধরতে যায়। তখনই রণক্ষেত্রের চেহারা ন্যাজাট থানার অন্তর্গত বাসন্তী হাইওয়ের চুঁচুড়া মোড়। তারপর থেকে বেপাত্তা ছিল মুসা। বিভিন্নভাবে তাকে খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে মঙ্গলবার খুব ভোরে গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, মুসা ন্যাজাটে এসেছে। খবর পাওয়ার পর নিজস্ব ‘সোর্স’ লাগিয়ে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ। অবশেষে তাকে পাকড়াও করে ন্যাজট থানা। এনিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, ‘পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে লুকিয়ে ছিল মুসা। আমরা গোপন সূত্রে খবর খবর পেয়ে একটি ভেড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করি। কী কারণে সেদিন পুলিশের উপর এই হামলা, তা আমরা ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছি। তদন্ত চলছে।’ দলীয় কর্মী মুসার গ্রেপ্তারি নিয়ে সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, ‘কেউ দোষ করলে তাকে কোনওভাবেই ছাড়বে না পুলিশ। সে যে দলের কর্মীই হোক না কেন।’