Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একই রাস্তা, শুধু কলকাতা পেরলেই বদলে যায় চরিত্র, বেআইনি হোর্ডিংয়ে বিটি রোডে বিপদ

একটাই রাস্তা। সেই রাস্তাই যখন কলকাতা শহর ছাড়ছে, বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট! কথা হচ্ছে উত্তর শহরতলি এবং কলকাতার অন্যতম যোগসূত্র বি টি রোড নিয়ে।

একই রাস্তা, শুধু কলকাতা পেরলেই বদলে যায় চরিত্র, বেআইনি হোর্ডিংয়ে বিটি রোডে বিপদ
  • ১৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: একটাই রাস্তা। সেই রাস্তাই যখন কলকাতা শহর ছাড়ছে, বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট! কথা হচ্ছে উত্তর শহরতলি এবং কলকাতার অন্যতম যোগসূত্র বি টি রোড নিয়ে। দমদম রোডেরও অবস্থাও একই। সিঁথির মোড় কিংবা দমদম স্টেশনে দাঁড়িয়ে রাস্তা বরাবর এদিক-ওদিক তাকালেই ফারাকটা নজরে পড়বে। কলকাতা পুরসভা এলাকার দিকে চোখ রাখলে রাস্তার দু’পাশে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং বা ইউনিপোল নজরে পড়বে না। উল্টো দিকে চোখ রাখলেই দৃষ্টি আটকে যাবে কোনও না কোনও বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং বা ব্যানারে। শুধু তাই নয়, রাস্তার দু’পাশে গাছগাছালির সংখ্যাও দুই পাশাপাশি এলাকায় দু’রকম। কয়েক বছরের মধ্যেই এই পরিবর্তন চোখে পড়ছে পথচারীদের। 

Advertisement

এর কারণ কী? অভিযোগ, পূর্তদপ্তর এবং বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিস কার্যত ঠুঁটো হয়ে থাকায় এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। পূর্তদপ্তর এবং পুলিসের অনুমতি ছাড়াই বেআইনিভাবে একের পর এক হোর্ডিং লাগানোর ফলে এই অবস্থা। যেকোনও দিন সেগুলি ভেঙে পড়ে বড় বিপদ ঘটতে পারে। তাছাড়া, দেদার দৃশ্যদূষণের সমস্যা তো আছেই।  
শ্যামবাজার থেকে বারাকপুর পর্যন্ত বি টি রোড পূর্তদপ্তরের কলকাতা নর্থ ডিভিশনের আওতাধীন। একইভাবে দমদম চিড়িয়া মোড় থেকে নাগেরবাজার পর্যন্ত দমদম রোডও এই দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে। দু’টি রাস্তার পাশে কোনও নির্মাণ করতে গেলে পূর্তদপ্তরের অনুমতি বাধ্যতামূলক। দু’টি রাস্তাই শুরু হচ্ছে কলকাতা পুরসভা এলাকা থেকে। কলকাতা পুরসভা এলাকার মধ্যে রাস্তার যতটা অংশ রয়েছে, সেখানে মাথার উপর হোর্ডিংয়ের বড় বড় ইউনিপোল নেই। দু’দিকেই সবুজ আছে যথেষ্ট। নির্মাণও হয়েছে বিধি মেনে। বি টি রোডের সিঁথির মোড় হল কলকাতা পুরসভার শেষ সীমা। সেখানে দাঁড়িয়ে বরানগর পুরসভা এলাকা অর্থাৎ ডানলপের দিকে তাকালে দেখা যায়, রীতিমতো প্রতিযোগিতার আবহে রাস্তার দু’পাশ ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। তৈরি হয়েছে একের পর এক ইউনিপোল। তাতে রকমারি বিজ্ঞাপন।  শুধু তাই নয়, রাস্তার ধারে লোহার কাঠামো তৈরি করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। ডিভাইডারও বাদ পড়েনি। গাছের ডাল কাটার নামে প্রতিদিন বৃক্ষ নিধন চলছে। একই চিত্র দক্ষিণ দমদম পুরসভার অধীন দমদম রোডের। প্রশাসনের কর্তারাই জানাচ্ছেন, এসব বিজ্ঞাপনী ইউনিপোল খুবই বিপজ্জনক। ঝড়ের সময় ভেঙে পড়তে পারে। তাই পূর্তদপ্তর এসব পোল বসানোর অনুমতি দেয় না। অথচ, তাদের জমিতেই মাথা তুলেছে ইউনিপোলগুলি। রাস্তার পাশে কোনও বেআইনি নির্মাণ, যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, সেসব ক্ষেত্রেও বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিস কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। এক আধিকারিক বলেন, ‘ইউনিপোল তৈরি করতে হলে তা পূর্তদপ্তরের অনুমতি ও নজরদারিতে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অথচ এখন স্থানীয় নেতা ও দাদাদের ইচ্ছে মতো কাজ হচ্ছে। এসব বেআইনি হোর্ডিং থেকে মাসে কয়েক কোটি টাকা আদায় হচ্ছে। কিছু কিছু পুরসভা তা থেকে ভিউ ট্যাক্স আদায় করছে।’ রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী পুলক রায় বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ