


স্বপন দাস, কাকদ্বীপ; বর্ণ বিদ্বেষের কারণে ভেঙে দু’ভাগ হয়ে গিয়েছিল সাগরদ্বীপের আদি দুর্গোৎসব কমিটি। এমনকি জাতিগত বিবাদকে কেন্দ্র করে অষ্টমীতে গুলিও চলেছিল। এ ইতিহাস সাগরবাসীর মুখে এখনও শোনা যায়। জানা গিয়েছে, ১৯২৫ সালে ১৩টি পরিবার মিলে শুরু করেছিল হরিণবাড়ি উত্তরপাড়া দুর্গোৎসব। পরে একজন মন্দির তৈরি করার জন্য জমি দান করেছিলেন। সে সময় টালির ছাউনি দেওয়া মাটির দেওয়ালের মন্দিরে দুর্গাপুজার আয়োজন হতো। কিন্তু ওই মন্দিরে নিচু বর্ণের মানুষদের ঢুকতে দেওয়া হতো না। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই জাতিগত বিবাদ চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিবাদ চরমে ওঠে। ১৯৩১ সালে উঁচু ও নিচু বর্ণের মানুষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। গুলি চলে। কয়েকজন আহত হন। এরপর ১৯৩২ সালে মন্দির থেকে কিছু দূরে শুরু হয় নতুন দুর্গাপুজো। সেদিন কয়েকজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর উদ্যোগে পুজো শুরু হয়। নাম দেওয়া হয়, ‘সাগর থানা সর্বজনীন দুর্গোৎসব’।
সেই পুজোয় সকল বর্ণের মানুষ এসে পুজো দিতেন। সেটাই সাগরদ্বীপে শুরু হওয়া প্রথম সর্বজনীন দুর্গোৎসব। বর্তমানে আর বর্ণ বিদ্বেষ নেই। এখন দু’টি মণ্ডপে সকল বর্ণের মানুষ পুজো দিতে পারেন। হরিণবাড়ি উত্তরপাড়া দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক অশোক মণ্ডল বলেন, ‘পূর্ব পুরুষদের মুখে শুনেছি তৎকালীন সময় বর্ণ বিদ্বেষের কারণে পুজো ভাগ হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন আর সেই সমস্যা নেই। সকল বর্ণের মানুষ এখন এই মন্দিরে এসে পুষ্পাঞ্জলি দেন। গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় ১০ বছর আগে স্থায়ী মন্দির তৈরি হয়।’ সাগর থানা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির কর্মকর্তা দেশপ্রদীপ মাইতি বলেন, ‘পুজো মণ্ডপে ব্রাহ্মণকে দিয়ে পুজো করানোর রীতি। উচ্চশ্রেণি ও নিম্নশ্রেণির দুই ব্রাহ্মণ পুজো করেন। বংশ পরম্পরায় তাঁরা পুজো করে আসছেন। মূলত সমাজ থেকে বর্ণ বিদ্বেষ মুছে ফেলার জন্যই এই ভাবনা।’