Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘নাশকতা কলকাতাতেও হতে পারে, সতর্ক হোন’, ভিডিয়ো কনফারেন্সে ওসিদের বার্তা সিপির

সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে লালকেল্লার অদূরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা দেশ তোলপাড়।

‘নাশকতা কলকাতাতেও হতে পারে, সতর্ক হোন’, ভিডিয়ো কনফারেন্সে ওসিদের বার্তা সিপির
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কার সিঁদুরে মেঘ দেখছে কলকাতাও! সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে লালকেল্লার অদূরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গোটা দেশ তোলপাড়। কয়েক মাস আগে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ রাজধানীতে বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতেও যেকোনও সময় নাশকতা চালানো হতে পারে বলে আগাম সতর্ক করে দিলেন কলকাতা পুলিশের সিপি মনোজকুমার ভার্মা। দিল্লির ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা পুলিশের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন তিনি। সেখানেই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অতীতের বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্ট উদ্ধৃত করে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়েছেন তিনি। এমনই একটি রিপোর্টে যেমন বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর সেখানকার জেল থেকে পালানো কুখ্যাত ১৭০-১৭৮ জন জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়ে। তাদের একাংশ জাল পাসপোর্ট-ভিসা বানিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। বাকিদের এখনও হদিশ নেই।’ এই গোয়েন্দা রিপোর্ট উদ্ধৃত করে শহরের সব থানার ওসি এবং অ্যাসিস্টান্ট কমিশনারদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার (এসটিএফ) ভি সলোমন নেসাকুমার ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, ‘কলকাতা দেশের নিরাপদতম শহর। তবে এখানে জঙ্গি হামলা হবে না—এই ভুল ধারণা এবার মাথা থেকে বের করে দিন।’ উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে বহুল প্রচারিত একটি বক্তব্য হল, কলকাতাকে বরাবর ‘ট্রানজিট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে গোটা দেশে হামলা চালিয়ে থাকে জঙ্গিরা। তাই কলকাতায় কখনও জঙ্গি হামলা হবে না। এই ধারণাগুলি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বলেন তিনি। 

Advertisement

সূত্রের খবর, এদিনের অনলাইন বৈঠকে ওই এসটিএফ কর্তা বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাশের দেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর সেখানকার পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। দেশের পশ্চিম সীমান্তের মতো ‘চিকেন নেক’ সহ ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তেও এখন বাড়তি সেনা  মোতায়েন করা হয়েছে। কারণ, আইএসআই মদতপুষ্ট পাক জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তি পশ্চিমবঙ্গ সহ উত্তর-পূর্বের ‘সেভেন সিস্টার্স’ হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলিতে একযোগে নাশকতা চালাতে পারে। সেই কারণেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল গোপনে বঙ্গ সফরে এসেছিলেন। সেনা বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। 
এই পরিস্থিতিতে ইডেনে আসন্ন ভারত-সাউথ আফ্রিকা টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। সিপি নিজে এদিন ইডেন গার্ডেন পরিদর্শন করেন ও সেখানকার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি, আগামী কয়েক দিন শহরে ঢোকা ও বেরোনোর পথ, মেট্রো স্টেশন, রেল স্টেশনে নজরদারি, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সংযোগস্থলে আচমকা নাকা চেকিং, অ্যান্টি সাবোতাজ চেকিং জোরদার করতে বলা হয়েছে। শহরের হোটেল, গেস্ট হাউসের আবাসিকদের উপর নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ