নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গঙ্গায় ভাসতে ভাসতে লাঞ্চ-ডিনার-পানাহার। কিংবা গঙ্গার বুকে বিয়ে-জন্মদিনের পার্টি। মানুষকে এসবের সুযোগ করে দিতে পরিকল্পনা করেছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গঙ্গায় ভাসতে ভাসতে লাঞ্চ-ডিনার-পানাহার। কিংবা গঙ্গার বুকে বিয়ে-জন্মদিনের পার্টি। মানুষকে এসবের সুযোগ করে দিতে পরিকল্পনা করেছে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট (এসএমপি) বেসরকারি উদ্যোগীদের যুক্ত করে ভাসমান রেস্তরাঁ–ক্যাফেটেরিয়া শুরু করতে চাইছে। এর পাশাপাশি গঙ্গায় হেরিটেজ ভ্রমণ, মিউজিয়াম, বিয়ে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করারও উদ্দেশ্য। এই কাজে বন্দর ব্যবহার করতে দেবে তাদের তিনটি পাইলট ভেসেল। কলকাতা বন্দরে প্রবেশ-বাহিরের জন্য পাইলট ভেসেল ব্যবহৃত হয়। একসময় হুগলি নদীর জলপথে জাহাজকে রাস্তা চিনিয়ে প্রায় সমুদ্র অবধি নিয়ে যেত তিনটি পাইলট ভেসেল, ‘পি এল রূপসা’, ‘পি এল হুগলি’ ও ‘পি এল গোপাল’। ২৫ বছরেরও আগে সেগুলি কাজ শুরু করেছিল। তারপর পুরনো হয়ে যাওয়ায় কর্মক্ষমতা কমে যায়। বাতিল করে দেওয়া হয়। সেগুলিকেই এবার মেরামত করে সাজিয়ে গুছিয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা বন্দর কর্তৃপক্ষের। এই কাজের জন্য এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট বা আগ্রহপত্র আহ্বান করা হবে বলে বন্দর জানিয়েছে। তারপর ভেসেলগুলির সংস্কার ও রূপান্তর হবে। জলপথে এগুলি চালাতে বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন উদ্যোগকারীরা।
এই ধরনের উদ্যোগ অবশ্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রথম নয়। স্বাধীনতার আগে নদীপথে অসম ও পূর্ববাংলায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হতো একটি ‘প্যাডল স্টিমার। সেটির নাম, ‘পি এস ভোপাল’। বহু বছর ধরে বন্দরে এটি অব্যবহৃত পড়েছিল। তারপর একটি বেসরকারি সংস্থা এটি দীর্ঘকালীন সময়ের জন্য লিজে নেয়। ওই সংস্থাটি প্রায় ১২ কোটি টাকা খরচ করে প্যাডল স্টিমারটির সংস্কার করে। নতুন নাম দেওয়া হয় ‘বেঙ্গল প্যাডল’। সেটি এখন গঙ্গাবক্ষে চলমান অবস্থায় বা জেটিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বৈঠক প্রভৃতির জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। একটি বেসরকারি সংস্থা এটি পরিচালনা করে। চুক্তি অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ বছরের নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনে নিখরচায় ব্যবহারের সুযোগ পায়। এবার আরও তিনটি পাইলট ভেসেলের ক্ষেত্রেও এই মডেল ব্যবহৃত করার পরিকল্পনা। আয়ের অংশ এবং বিনা পয়সার নির্দিষ্ট দিন ব্যবহারের সুযোগ বন্দর পাবে এমন ব্যবস্থারও পরিকল্পনা।
বন্দরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানান, বেঙ্গল প্যাডেলে অনেক বেশি মানুষ উঠতে পারেন। ভাড়াও বেশি। কিন্তু অল্পসংখ্যক মানুষের অনুষ্ঠানের জন্য বেশি ভাড়া দিতে চান না বহু উদ্যোক্তা। এবার নতুন তিনটি পাইলট ভেসেল নিয়ে পরিকল্পনা হয়েছে। সেগুলিতে ৩০ থেকে ১০০ জন উঠতে পারবেন। পি এল রূপসা ও পি এল হুগলি ৩৩ মিটার দীর্ঘ। এদের বহনক্ষমতা ৫০ থেকে ১০০ জন। ১৯ মিটার দীর্ঘ পি এল গোপাল ৩০ থেকে ৫০ জন বহন করতে সক্ষম। এই ভেসেলেই হবে ভাসমান রেস্তরাঁ।