


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: কলকাতা স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএসটিসি) এক প্রাক্তন কর্মীর দায়ের করা মামলায় শুক্রবার হাইকোর্টে হাজিরা দিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। ওই মামলায় সিএসটিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে মদনের বিরুদ্ধে রুল জারি হয়।
মামলাকারী অমরেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, অবসর নেওয়ার পরেও অবসরকালীন সুবিধা (প্রভিডেন্ট ফান্ড) তিনি এখনও পাননি। এনিয়ে দায় এড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছিল রাজ্য, পিএফ ট্রাস্ট এবং সিএসটিসি। শেষপর্যন্ত সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের হাজিরার জন্য ‘রুল জারি’ করে হাইকোর্ট। তা মেনে এদিন হাজিরা দেন মদন।
গতবছর ৯ জুলাই বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় সিএসটিসিকে মামলাকারীর অবসরকালীন সমস্ত প্রাপ্য সুদসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ কার্যকর না-করায় আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। তাতেই রুল জারিসহ মদনকে হাজিরার নির্দেশ দেন বিচারপতি। মদনের হাজিরার পর বিচারপতি বলেন, ‘কোনও ইগো থেকে ডাকিনি। প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে তদন্তের জন্য ডেকেছি। মাসিক বেতন থেকে এই টাকা কেটে নেওয়া হয় ভবিষ্যতের জন্য। সিএসটিসি কর্মীরা তাঁদের টাকা পাচ্ছেন না। কারও মেয়ের বিয়ে কিংবা কারও স্ত্রীর অসুখের চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার। আমি তিন-চার বার সুযোগ দিয়েছি। আপনাদের এখন ডেকেছি। দেখতে হবে কর্মীরা যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না-হন।’
রাজ্যের তরফে আইনজীবী অমিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যের টাকা বোর্ডের মাধ্যমে কর্মীরা পান। তাই ওই টাকা পরিবহণ দপ্তরকেই দিতে হবে। আমরা টাকা ইতিমধ্যেই দিয়েছি। এবার পরিবহণ দপ্তর কী করেছে জানি না। ১৭ জনের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ রাজ্যের এই বক্তব্য শোনার পরই বিচারপতি বলেন, ‘১৭ জন টাকা পেয়েছেন। কিন্তু ১৫০ জন আবেদনকারীর টাকা বাকি রয়েছে। আপনাদের ডেকে আমার কোনও আনন্দ নেই। কিন্তু বাকিদের টাকা নিয়ে আমরা ভাবছি।’
শুনানিতে ছিলেন অর্থদপ্তরের প্রধান সচিব প্রভাত মিশ্র। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবহণ দপ্তরকে দিয়েছি। এবার তারা ডে টু ডে দেখবে। ট্রান্সপোর্ট সচিবকে চিঠি লিখেও লাভ হয়নি।’সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি তাঁর নির্দেশে জানান, বকেয়া অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে পরিবহণ দপ্তর এবং অর্থদপ্তরকে আগামী চারমাসের মধ্যে পদক্ষেপ করতে হবে।