Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বাংলাদেশে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে হাজিরাও কম, হাসিনার বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল অ্যামনেস্টি

দেশে না থেকেও বাংলাদেশে প্রবলভাবে উপস্থিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মানবতা বিরোধী অপরাধে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল।

বাংলাদেশে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে হাজিরাও কম, হাসিনার বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল অ্যামনেস্টি
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: দেশে না থেকেও বাংলাদেশে প্রবলভাবে উপস্থিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মানবতা বিরোধী অপরাধে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল। সেই রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশব্যাপী সবকিছু অচল করার ডাক দিয়েছিল হাসিনার দল আওয়ামি লিগ। তাদের এই কর্মসূচিকে বানচাল করতে প্রস্তুত ছিল প্রশাসনও। তবে মঙ্গলবার কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রাজধানী ঢাকা সহ প্রধান শহরগুলি ছিল থমথমে। তবে উত্তেজনা আঁচ করে বাইরে বেরনো থেকে পারতপক্ষে দূরে ছিল ঢাকাবাসী। এক গাড়ি ব্যবসায়ী এদিন বলেন, ‘শহরবাসী ঘরে থাকাই নিরপাদ ভেবেছেন। তাই রাস্তায় যানবাহনের উপস্থিতি ক্ষীণ।’ সরকারি অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে হাজিরাও ছিল কম। 

Advertisement

এদিন ঢাকার রাস্তায় টহল দেয় সশস্ত্র পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। সর্বত্র ছিল কঠোর নিরাপত্তা। তবে মঙ্গলবার শান্ত থাকলেও পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর চিন্তা বাড়িয়ে আওয়ামি লিগ বুধবার থেকে তিনদিন দেশের সর্বত্র বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বেআইনি, অসাংবিধানিক, হত্যকারী এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’ 
এরই মধ্যে হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংবাদমাধ্যমকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবারই ট্রাইবিউনালের রায়কে অবৈধ বলে মন্তব্য করেছিলেন দেশত্যাগী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। সেই নিয়ে সারাদেশে বিতর্কের ঝড় ওঠে। সূত্রের খবর, এরপর সোমবারই তড়িঘড়ি ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির পক্ষ থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ‘জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবে সাংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আর্জি জানানো হচ্ছে।’ সঙ্গে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারির সুরে বলা হয়েছে, ‘একতা, নিরাপত্তা, ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে এমন বিষয়বস্তু অপসারণ এবং কালো তালিকাভুক্ত করার কথা ক্ষমতা রয়েছে সরকারের।’   
এই অবস্থায় হাসিনার ফাঁসি নিয়ে রায়ের গ্রহণযোগ্যাতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে— কার্যত এই ভাষাতেই হাসিনা মামলায় রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লু)। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, ‘এই বিচার কখনওই স্বচ্ছ ছিল না। হাসিনার অনুপস্থিতিতে এই রায়দান নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’ আর এইচআরডব্লুর প্রতিক্রিয়া, ‘এই বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মান স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ সংযত প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, ‘বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত রূপে বিবেচিত হবে।’ তবে রাষ্ট্রসংঘ যে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী তাও পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ