Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাস্তাও চুরি! আটকাতে ডিজিটাইজেশন রাজ্যের

পুকুর চুরি’ নয়, রাস্তা চুরি! বিষয়টি কার্যত তাই! রাস্তার দু’ধারের ফাঁকা জমি জবরদখল করে গজিয়ে উঠছে ঘরবাড়ি বা আস্ত বাজার।

রাস্তাও চুরি! আটকাতে ডিজিটাইজেশন রাজ্যের
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ‘পুকুর চুরি’ নয়, রাস্তা চুরি! বিষয়টি কার্যত তাই! রাস্তার দু’ধারের ফাঁকা জমি জবরদখল করে গজিয়ে উঠছে ঘরবাড়ি বা আস্ত বাজার। দাজিলিং থেকে দীঘা, কোচবিহার থেকে ক্যানিং—রাজ্যের সর্বত্র কমবেশি শোনা যায় এমন অভিযোগ। জনস্বার্থে কখনও রাস্তা চওড়া করার প্রয়োজন হলে তখনই গোল বাধে। দখলদারদের সরিয়ে কাজ শুরু করতে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয় প্রশাসনকে। কখনও কখনও ব্যর্থ হয়ে ফিরতে

Advertisement

হয়। 
এভাবে রাস্তা সংলগ্ন জমি ‘চুরি’ আটকাতে তৎপর হল নবান্ন। তাই পূর্তদপ্তরের আওতাধীন সমস্ত রাস্তার নথি ডিজিটাইজেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জমির মালিকানা নির্ধারণ করতে পূর্তদপ্তরের ল্যান্ড আকুইজিশিন সার্টিফিকেট, পজেশন সার্টিফিকেট এবং ল্যান্ড শিডিউলকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে ধরা হবে। ১৯৫৫ সাল থেকে পূর্তদপ্তরের হাতে যত জমি এসেছে, তার কয়েক লক্ষ নথি ডিজিটাইজেশনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে এই কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ সংস্থার সাহায্য নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে নবান্ন। 
রাস্তা সহ যে কোনও প্রকল্পের জন্য জমির দরকার পড়লে সেই দায়িত্ব বর্তায় সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের উপর। ২০১৩ সালে রাজ্য নতুন আইন আনায় এখন প্রকল্পের জন্য জমি কিনে নেওয়া হয়। তার আগে প্রকল্পের জন্য মূলত জমি অধিগ্রহণ করা হতো। দুই ক্ষেত্রেই জমি চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে দপ্তরকে হস্তান্তর পর্যন্ত ল্যান্ড আকুইজিশিন বা পজেশন সার্টিফিকেট এবং ল্যান্ড শিডিউল তুলে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। কোনও জমি পূর্তদপ্তরের মালিকানাধীন কি না, এসব নথিই তার প্রমাণ। পদস্থ এক কর্তার কথায়, ‘পুরনো বহু নথি নষ্ট হতে বসেছে। সব কাগজ হলদেটে ও ঝুরঝুরে হয়ে রয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে কিছুই বাঁচানো যাবে না। এতে আখেরে সমস্যা বাড়বে সরকারের। তাই ডিজিটাইজেশনের সিদ্ধান্ত।’ 
পূর্তদপ্তরের রাস্তা সংক্রান্ত সমস্ত নথি আলিপুরের অফিসে রয়েছে। তবে দপ্তরের নিজস্ব বাড়ি, অফিস ভবন, গেস্ট হাউস  ইত্যাদির মালিকানা সংক্রান্ত নথি রয়েছে সংশ্লিষ্ট ডিভিশনগুলিতে। সার্বিক ডিজিটাইজেশনের জন্য সমস্ত নথি এক জায়গায় নিয়ে আসা হবে বলে জানা গিয়েছে। ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে পোর্টালের মাধ্যমে যাবতীয় তথ্য সাধারণ মানুষ দেখতে পাবে কি না, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য। 
প্রসঙ্গত, জমি হস্তান্তরের পর ভূমিদপ্তরের তথ্যভাণ্ডারেও প্রয়োজনীয় বদল করা হয়। অর্থাৎ, হস্তান্তরিত জমির পরচা তৈরি হয়ে যায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নামে। তবে দপ্তরের হাতেই প্রামাণ্য নথি থাকলে আইনি লড়াইয়ে জমির মালিকানা প্রমাণ করা অনেক সহজ হয় বলে মনে করেন আধিকারিকরা। তাই তাঁদের আশা, ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন রাস্তার দু’ধারের জমি ‘চুরি’ আটকানো যাবে, তেমনই সরকারি জমির দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ গ্রহণও সহজ হবে আগের তুলনায়।

সম্পর্কিত সংবাদ